দেশে মহামারি আকার ধারণ করা হামের প্রকোপে আবারও উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। মহামারি প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের নানা তৎপরতা ও সমন্বিত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোগটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এর মধ্যে এককভাবে ঢাকা বিভাগেই সর্বাধিক ৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যা রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সংক্রামক এ ব্যাধির আশঙ্কাজনক ছড়িয়ে পড়ার চিত্র নির্দেশ করে। একই সময়ে দেশজুড়ে অন্তত ১ হাজার ৩১ জনের শরীরে নতুন করে হামের বিভিন্ন উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে আরও ৮০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতিবিষয়ক সারণী ও প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সমন্বিত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে মোট ৮১৬ জন শিশু। এর পাশাপাশি ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ জন শিশু। ফলে দুই হিসাব মিলিয়ে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারানো শিশুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১৫ জনে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের এমন করুণ পরিণতি অভিভাবক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
চলতি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া নিশ্চিত ৫০ জন রোগীসহ গত ১৫ মার্চ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১৭ হাজার ৯৩০ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৩১ জন শিশু ও ব্যক্তির শরীরে হামের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮ জনে। চিকিৎসা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন নতুন করে বিপুলসংখ্যক রোগী উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রাদুর্ভাবের চিকিৎসায় সারাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৮৬ জন রোগী। তাদের মধ্যে নিবিড় চিকিৎসাসেবা লাভ করে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ১ লাখ ২০ হাজার ৯১৩ জন।
বর্তমানে আরও কয়েক হাজার রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। দেশজুড়ে আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বগতি থামাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্বিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করার পাশাপাশি ইপিআই টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা শিশুদের সঠিক সময়ে হামের টিকা প্রদান এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখামাত্র দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দিচ্ছেন।