উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 12
রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহীর চারঘাটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় সোহেলী আক্তার নামের এক কলেজশিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) নন্দনগাছী কলেজের গভর্নিং বডির জরুরি সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বরখাস্তের আগে নিয়ম অনুযায়ী তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সোহেলী আক্তার চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী কলেজের গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক। জানা গেছে, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি ফটো কার্ড পোস্ট করেন তিনি। ‘গভীর শোক’ লেখা ওই ফটো কার্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিও ব্যবহার করা হয়। পোস্টটির ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’।
এর পরদিন রোববার কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষের কাছ থেকে মৌখিকভাবে ছুটি নেন সোহেলী আক্তার। পরে সোমবার কলেজ গভর্নিং বডির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে বরখাস্তের আগে তাকে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নন্দনগাছী কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রভাষক সোহেলী আক্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কেউ এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট দিতে পারেন না। তাই কলেজের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বসে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি।’
বরখাস্তের আগে সোহেলী আক্তারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এটা হয়নি। দেখা যাক, আমরা এখনো আলোচনা করছি। এটাও হবে।’
অর্থাৎ, বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শিক্ষককে লিখিতভাবে তার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতির বক্তব্যে উঠে এসেছে। পরবর্তী সময়ে শোকজ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে, সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রভাষক সোহেলী আক্তার বলেন, ‘আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এটা আমি জানি না। আমার কী দোষ সেটাও তো জানি না। আমার কিছু বলার নেই।’
ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে এসেছে। বিশেষ করে শোকজ না দিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েই আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের বিষয় বিবেচনা করেই সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।