ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬,  ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশজুড়ে বোমা উদ্ধার ও জাতিসংঘের উদ্বেগে জঙ্গিবাদ নিয়ে নতুন তোলপাড় গভীর রাতের মধ্যে ১৫ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা সংবিধান লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার: ড. ইউনূসের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যঙ্গাত্মক 'ককরোচ আন্দোলন' থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মতো জুলাই অভ্যুত্থান যেন দলীয় সম্পত্তি না হয়: ববি হাজ্জাজ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে: বিএমইউ উপাচার্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন ক্রাউন প্রিন্স চট্টগ্রামে গাড়িচালক সজিব হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড উপসচিব পদে ২৭৭ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিল সরকার সরকারের ১৮০ দিনে হানিমুন পিরিয়ড শেষ করেছি: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থী বাছাইয়ের অভিযোগে ‘অতীব জরুরি’ চিঠিতে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা শিক্ষা বোর্ড


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৫:৫৪ পিএম

নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফল নিয়ে শিক্ষার্থী বাছাইয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৮২ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেলেও ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত ৬০১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২১৯ জন এবার পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। টেস্ট পরীক্ষায় নিয়ম-বহির্ভূতভাবে অকৃতকার্য দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সুযোগ না দেওয়া এবং শতভাগ জিপিএ-৫-এর সাফল্য ধরে রাখতে শিক্ষার্থী ছাঁটাইয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।


আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষককে সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। গত রোববার (১৬ আগস্ট) মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খানের সই করা এক চিঠিতে এই জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়।


শিক্ষা বোর্ডের পাঠানো ওই চিঠিতে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী, নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী, এসএসসির নির্বাচনী বা টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী এবং চূড়ান্ত ফরম পূরণ করা শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে পাঠদান, বিভাগ ও অতিরিক্ত শ্রেণি শাখার অনুমোদনপত্রও দেখাতে হবে। চিঠিতে বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার পেছনে শিক্ষার্থী ছাঁটাই বা বাছাইয়ের কৌশল নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে অভিযোগ করা হয়, টেস্ট পরীক্ষায় পাস করা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত জিপিএ বা কম নম্বর পাওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে এসএসসির ফরম পূরণ করতে দেওয়া হয়নি। বিষয়গুলো নজরে আসার পর শিক্ষা বোর্ড অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল, রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয়।


চলতি বছর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমস থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৩৭৬ জন এবং ব্যবসায়ী শিক্ষা শাখায় ৬ জনসহ মোট ৩৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জন করে। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটির ৩২০ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তবে দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ছিল ৬০১ জন। ফলে নিবন্ধনের পর থেকে পরীক্ষা পর্যন্ত ২১৯ জন শিক্ষার্থী বাদ পড়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, কৃত্রিমভাবে শতভাগ সাফল্য ধরে রাখতে টেস্ট পরীক্ষাকে ছাঁটাইয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে টিসি নিয়ে অন্য স্কুলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও পরে দুর্দান্ত ফল করেছে। নরসিংদী সানবীন স্কুলে ভর্তি হয়ে পরীক্ষা দেওয়া ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া ঘোড়াদিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন এবং নরসিংদী মডেল স্কুলের চারজনের মধ্যে একজন জিপিএ-৫ অর্জন করে।


এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর ছেলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলে পড়াশোনা করেছে। অথচ টেস্ট পরীক্ষায় ঐচ্ছিক বিষয় জীববিজ্ঞানে কম নম্বর পাওয়ায় তাকে টিসি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। পরে অন্য স্কুলে ভর্তি হয়ে সে জিপিএ-৫ পায়। পরীক্ষার ঠিক দুই মাস আগে এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীর ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। অন্য এক শিক্ষার্থী জানায়, অষ্টম শ্রেণি থেকেই কঠিন প্রশ্ন ও খাতার কঠোর মূল্যায়নের নামে শিক্ষার্থী বাদ দেওয়া শুরু হতো।


তবে নরসিংদী সানবীন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মোমতাজ উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুল থেকে আসা ৫০ জন শিক্ষার্থীকে অঙ্গীকারনামা নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে ২৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।


অন্যদিকে, শিক্ষার্থী বাছাইয়ের সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন। তিনি জানান, সরকারি নিয়ম মেনে ৩৩ শতাংশ নম্বর পাওয়া সব শিক্ষার্থীকেই ফরম পূরণ করতে দেওয়া হয়েছে। এ বছর ৪৮৩ জন টেস্ট পরীক্ষা দিয়েছিল, যার মধ্যে ৩৮২ জন পাস করে ফরম পূরণ করেছে এবং ১০১ জন অকৃতকার্য হয়েছিল। পাসের পেছনে কঠোর শৃঙ্খলা ও নিবিড় তদারকিই প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।


ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা খান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আকতারুজ্জামান জানান, টেস্টে পাস করার পরও কেবল এ প্লাস পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ফরম পূরণ করতে না দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর