ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬,  ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরও এক বছরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব থাকছেন ড. নাসিমুল গনি ইরাকি কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জোড়া ড্রোন হামলা লোহিত সাগরে সৌদির যুদ্ধজাহাজে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে বেলজিয়াম হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে, ওমান বাধা দিলে হামলা: ট্রাম্প খায়রুল হকের কারামুক্তিতে বাধা নেই, আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেশজুড়ে বোমা উদ্ধার ও জাতিসংঘের উদ্বেগে জঙ্গিবাদ নিয়ে নতুন তোলপাড় গভীর রাতের মধ্যে ১৫ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির শঙ্কা সংবিধান লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার: ড. ইউনূসের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যঙ্গাত্মক 'ককরোচ আন্দোলন' থেকে ভারতীয় রাজনীতিতে তোলপাড়

সংবিধান লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার: ড. ইউনূসের সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে মৃত্যুদণ্ড


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৪৬ পিএম

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনামল পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনসহ গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার ও প্রমাণ মিললে দেশের প্রচলিত আইনে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া প্রতারণা, আর্থিক সুবিধা গ্রহণ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে অন্যান্য ধারায় তাঁর ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সুযোগ রয়েছে।


সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সংবিধানের ৭ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধানের কোনো অংশ বাতিল, পরিবর্তন কিংবা স্থগিত করার চেষ্টা অথবা নাগরিকদের আস্থা ক্ষুণ্ণ করা রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া তোয়াক্কা না করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি ও অসাংবিধানিকভাবে গণভোট অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে এখতিয়ার বহির্ভূত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতারণামূলক দলিল বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে গঠিত প্রধান উপদেষ্টার পদে থেকে সংবিধানের রক্ষণাবেক্ষণের যে শপথ তিনি নিয়েছিলেন, তা ভঙ্গের অভিযোগও উঠেছে।


সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বর্ণিত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণের ক্ষেত্রেও ইউনূস সরকার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। তাঁর শাসনামলে আইনের দৃষ্টিতে সমতা সংক্রান্ত ২৭ অনুচ্ছেদ ও আইনের আশ্রয় লাভের ৩১ অনুচ্ছেদ ক্ষুণ্ণ করে প্রায় ৫০ হাজার নাগরিককে বিনা বিচারে দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখা এবং বেআইনিভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর শাসনামলে সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত এক হাজারটি হামলা, মাজার ভাঙচুর ও বাউলদের ওপর সহিংসতা ঘটে, যা সংবিধানের ২৮ ও ৪১ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এছাড়াও সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা, সাংবাদিকদের বাধার মুখে ফেলা এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটিয়ে সংবিধানের ৩৯ ও ৪০ অনুচ্ছেদের ওপর বড় আঘাত হানা হয়েছে।


প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক চুক্তি সম্পাদনে সংবিধানের ১৪৫ক অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ড. ইউনূস তা অমান্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংসদ ও রাষ্ট্রপতিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে চীনের সঙ্গে ড্রোন কারখানার জিটুজি চুক্তি, পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার, চীন থেকে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরোফাইটার টাইফুন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাবমেরিন, তুরস্কের টি-১২৯ হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার সংগ্রহ এবং জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা গুরুতর সাংবিধানিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।


নিজস্ব প্রতিষ্ঠানকে অসাধু উপায়ে লাভবান করার ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের দীর্ঘ তালিকা পাওয়া গেছে। প্রধান উপদেষ্টা পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে মাত্র তিন মাসের মধ্যে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ অনুমোদন, গ্রামীণ অ্যামপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রপ্তানি লাইসেন্স গ্রহণ এবং গ্রামীণ টেলিকমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সমাধান সার্ভিসেস’কে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পিএসপি লাইসেন্স প্রদান করা হয়। এছাড়া আইন সংশোধন করে গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের শেয়ার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং কর মওকুফের সুবিধা নেওয়া দণ্ডবিধির ১৬৬, ১৬৭, ১৬৮ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় স্পষ্টত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিজের সুবিধা হাসিলের অভিযোগও অত্যন্ত গুরুতর। পদে আসীন হওয়ার পরপরই অর্থপাচার মামলা, শ্রম আইনের মামলায় নির্ধারিত ছয় মাসের সাজা এবং বিপুল অঙ্কের আয়কর ফাঁকির মামলা থেকে নিজেকে খালাস করে নেন তিনি। আইনজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধির ২২৮ ধারা এবং ২০১৩ সালের আদালত অবমাননা আইন অনুযায়ী এটি স্পষ্ট বিচারিক কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপের শামিল।


স্বাস্থ্যখাতে চরম গাফিলতির ফলে শিশুদের মৃত্যু ও মারাত্মক অসুস্থতার জন্য দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারা অনুযায়ী ড. ইউনূস ও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহানের বিরুদ্ধে ‘অবহেলাজনিত হত্যা’ বা ‘নেগলিজেন্ট হোমিসাইড’-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারের চরম অবহেলার কারণে শিশুদের হামের টিকা দান কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ ধরনের প্রাণহানি ঘটে বলে অভিযোগে বলা হয়। ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব সংবেদনশীল ও গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের সত্যতা বিচারে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর