ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

তালতলীতে বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সভা বন্ধ ঘোষণা প্রশাসনের


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:২৬ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলী উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের মুখোমুখি ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে চরম উত্তেজনার মুখে দলীয় সভা-সমাবেশ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলের দিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে এই আদেশ জারি করে।

এদিকে পরিস্থিতি চলাকালে পিস্তল, গুলি ও ম্যাগজিনসহ পাঁচ বহিরাগত সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালতলী উপজেলার সাধারণ তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিঞা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে 'আওয়ামী লীগ লালন-পালন' করার অভিযোগ এনে কটু মন্তব্য করেন। মোস্তাকের এই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তালতলী উপজেলা বিএনপিতে প্রকাশ্য কোন্দল ও বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের একাংশ মোস্তাকের পক্ষ নেয়। অন্যদিকে, তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল হকের নেতৃত্বে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনের অপর একাংশ জেলা আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লার পক্ষে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করে। এতে করে দুটি পক্ষই শহরে মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে।

এমন পরিস্থিতিতে মোস্তাকের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বুধবার বিকেল ৩টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে কটু মন্তব্যের প্রতিবাদে একই সময়ে পাল্টা সমাবেশের আহ্বান জানান সাবেক আহ্বায়ক মোঃ শহীদুল হকের সমর্থকরা। শহরজুড়ে একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সভা-সমাবেশ ঘোষণায় চরম সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির ঝুঁকিতে উপজেলা প্রশাসন ও তালতলী থানা পুলিশ উভয় পক্ষের সব ধরনের কর্মসূচি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।

কর্মসূচীকে ঘিরে উত্তেজনা চলাকালেই দুপুরে স্থানীয় জনতা শহরের একটি অংশ থেকে পিস্তল, গুলি ও ম্যাগজিনসহ পাঁচ বহিরাগতকে হাতেনাতে আটক করে। আটককৃতরা হলেন— জিহাদ খাঁন (৩৫), হৃদয় মোল্লা (২৫), অনিক মজুমদার (২৫), লিমন সিকদার (২৮) এবং জামাল মল্লিক (২৭)।

ঘটনা প্রসঙ্গে তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিঞা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি প্রশাসন বন্ধ করেছে। বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধে সত্য কথা বলায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসী এনে মহড়া দেওয়া হচ্ছিল। স্থানীয় জনতা পিস্তল ও গুলিসহ পাঁচ সন্ত্রাসীকে ধরে পুলিশে দিয়েছে। আমি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে আওয়ামী লীগ লালনকারী নজরুল ইসলাম মোল্লা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।’

পাল্টা অভিযোগ করে তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ শহীদুল হক বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোস্তাক আমাদের জেলা কমিটির সিনিয়র আহ্বায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে চরম অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। এর প্রতিবাদেই আমরা সভার আহ্বান করেছিলাম, যা প্রশাসন বন্ধ করেছে। দলের জ্যেষ্ঠ ও সম্মানিত নেতার বিরুদ্ধে অনবরত মিথ্যাচার করার অপরাধে মোস্তাকের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে বিএনপির দুই পক্ষের কর্মসূচি বন্ধ রাখা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ‘জনস্বার্থে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিএনপির দুই গ্রুপের ডাক দেওয়া সব ধরণের কর্মসূচি বন্ধ করা হয়েছে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর