খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকায় মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে লবণচরার আশি বিঘা এলাকায় পৃথক এই দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম নাজমুল এবং অপরজনের নাম মো. মঞ্জুরুল ইসলাম। জোড়া খুনের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নিয়ে জোর অভিযান শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শিশু বাগান আশি বিঘা এলাকায় নাজমুল নামে ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নাজমুল ওই এলাকার মনির হোসেনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য মতে, রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নাজমুল ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। এরপর আততায়ীরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে লাশ ফেলে রেখে এলাকা ত্যাগ করে।
এর আগে একই রাতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই একই এলাকা অর্থাৎ আশি বিঘা অঞ্চলে দুর্বৃত্তদের হামলায় মো. মনজুরুল ইসলাম নামে ২২ বছর বয়সী আরেক যুবক নিহত হন। হরিণটানার আশি বিঘা এলাকার বালুর মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের সঙ্গে মনজুরুলের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ঘটনার পর মনজুরুল আশি বিঘা কালভার্টের কাছে এলে প্রতিপক্ষ দল তাকে লক্ষ্য করে পেটে ছুরি মারে এবং পরবর্তীতে বাম পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা মনজুরুলকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া ক্ষোভ ও বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
জোড়া হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করে লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পুরো ঘটনার পেছনের মূল কারণ অনুসন্ধান করতে গভীর তদন্ত চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে খুলনা সদর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, লবণচরা এলাকা থেকে পৃথক সময়ে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মরদেহ ইতোমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। অপর যুবকের মরদেহ অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই মর্মান্তিক জোড়া খুনের পেছনে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।