হেডিংলিতে আয়োজিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে ইনিংস এবং ১০৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচের দুই ইনিংসেই দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই প্রথম উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসনের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আজান আওয়াইস। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে রান তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারে ৫ বল মোকাবিলা করে আবারও শূন্য রানে আউট হন ইমাম-উল-হক। উভয় ক্ষেত্রেই স্কোরবোর্ডে পাকিস্তানের দলীয় রান ছিল ঠিক শূন্য।
টেস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘ ইতিহাসে ইনিংসের শুরুতেই শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো খুব অস্বাভাবিক ঘটনা না হলেও, একই ম্যাচের দুটি ইনিংসে পরপর একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করে অনাকাঙ্ক্ষিত এক নজির গড়ল পাকিস্তান। বিশ্ব টেস্ট ইতিহাসে এবার নিয়ে মোট সপ্তমবারের মতো একই টেস্টের উভয় ইনিংসে শূন্য রানে নিজেদের প্রথম উইকেট হারানোর রেকর্ড লিপিবদ্ধ করল দলটি। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে অন্য কোনো দেশের ঝুলিতে এই ধরনের বিব্রতকর পরিসংখ্যান এত বেশিবার নেই।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪৭২টি টেস্ট খেলে পাকিস্তান সর্বমোট সাতবার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, যা গড়ে প্রতি ৬৮টি টেস্টে অন্তত একবার। এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ড তাদের দীর্ঘ ১০৯৮ টেস্টের ইতিহাসে পাঁচবার দুই ইনিংসে দলীয় শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছিল, যার গড় প্রায় প্রতি ২২০ টেস্টে একবার।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ১৯৭৯ সালের মার্চে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রথমবার এই বাজে রেকর্ডে নাম লেখায় পাকিস্তান। এরপর ১৯৮২ সালের জুলাইয়ে বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয়বার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। ১৫ বছর পর ১৯৯৭ সালে কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আবারও দুই ইনিংসে শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। পরবর্তীতে ২০০২ সালে শারজায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ২০১৩ সালে দুবাইতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এবং ২০২৪ সালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল দলটিকে। সর্বশেষ হেডিংলি টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবারও সেই পুরানো রেকর্ডের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল পাকিস্তান।