চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে নিজ মুদিদোকান ও বিকাশ এজেন্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কাওছার আলী (৩২) নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে ১৪ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা না দিলে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। এদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুমিরদিয়া ক্লাবপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাওছার আলীর কাছে কিছুদিন ধরে আসামিরা বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ৬ আগস্ট ইয়াবা সেবনের টাকা দাবি এবং ২০ আগস্ট মোবাইল ফোনে চাপ দেওয়ার পর ওই দিন দুপুরে ও সন্ধ্যায় কয়েক দফায় হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোকান বন্ধের প্রস্তুতিকালে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে দোকানে ঢুকে কাওছারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। সেখান থেকে জোরপূর্বক তাকে মোটরসাইকেলে তুলে কেদারগঞ্জ আদর্শ স্কুলের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুলের নৈশপ্রহরী সাগরের উপস্থিতিতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে ক্যাশ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা ছাড়াও অতিরিক্ত এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আগামী সোমবারের (২৪ আগস্ট) মধ্যে চাঁদা না দিলে স্ট্যাম্প লিখে নেওয়া বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রাত আনুমানিক ৩টা ৭ মিনিটে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা কাওছারকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কাওছার বাদী হয়ে স্থানীয় তপু (২৫), তিতাস (২৫), সজল (২২), মুন্না (১৯), ইকবাল (২২), সজীব (২৪) ও আশা (২৩)-সহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করে এজাহার দায়ের করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। এজাহারনামীয় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।