ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

১৩ লাখ টাকা হজম করতে সাজানো অপহরণের নাটক, জেলে পাওনাদার


  • আপলোড সময় : শনিবার ২২ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৩৮ পিএম

নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর বদলগাছীতে পাওনা টাকা পরিশোধ না করতে অপহরণের নাটক সাজিয়ে পাওনাদারের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে আল মাহমুদ আচাব নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাওনাদার ছানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবার।


অভিযুক্ত আল মাহমুদ আচাব বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের হলুদবিহার গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি এলাকায় একটি এনজিও পরিচালনা করতেন। ব্যবসায় আর্থিক লোকসানের কারণে সংকটে পড়ে তিনি আত্মীয় ছানোয়ার হোসেনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ লাখ টাকা ধার নেন।


ছানোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের দাবি, তাঁর স্বামী সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর পেনশনের টাকা পেলে এনজিওর প্রয়োজনে প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা নেন আচাব। পরে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আরও আট লাখ টাকা নেওয়া হয়। তবে টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিন পার হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি।


পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আচাব সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন ছানোয়ার হোসেন। এর পরই আচাব আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজান বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বজন ও স্থানীয়রা।


আচাবের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান ও পারিবারিকভাবে আলোচনা হলে অপহরণের ঘটনাটি সাজানো ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে আচাবের বড় বোন নাজমা বেগমের উদ্যোগে পারিবারিকভাবে সালিশ বৈঠক হয়।


বৈঠকে আচাব তাঁর ভুল স্বীকার করেন এবং ৪৫ দিনের মধ্যে ছানোয়ার হোসেনের পাওনা টাকা পরিশোধের বিষয়ে সমঝোতা হয় বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।


তবে এর পরও ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের। ওই মামলায় তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে বলে জানান তাঁর স্ত্রী নাসিমা আক্তার।


তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী প্রকৃতপক্ষে আচাবের কাছে টাকা পাবেন। টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো অপহরণের নাটক সাজিয়ে মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় আমার স্বামী এখন জেলে। আদালতের কাছে আমার স্বামীর জামিন এবং পাওনা টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’


কোলা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসেন বলেন, ‘ছানোয়ার হোসেন আচাবের কাছে টাকা পাবেন,এটা এলাকায় অনেকেই জানেন। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তিনি আদালতে মামলা করেছেন। এখন শুনছি, উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই অপহরণ মামলা হয়েছে এবং তিনি জেলহাজতে আছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’


অভিযোগের বিষয়ে আল মাহমুদ আচাবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ফোনে কথা বলতে আগ্রহী নন, সাক্ষাতে কথা বলবেন। তবে তিনি ছানোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে কোনো উত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।


মামলার বিষয়ে নওগাঁ সদর থানার এসআই ও তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহিন বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।


তবে অভিযোগের সত্যতা ও মামলার বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


এ সম্পর্কিত আরো খবর