মোঃ বাকি অনিক, কুমিল্লা প্রতিনিধি
সড়কের যত্রতত্র গর্ত এবং সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা—কুমিল্লা শহরের প্রায় প্রতিটি সড়কেরই এখন এমন জরাজীর্ণ ও বেহাল দশা। বিশেষ করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৫, ৭ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভেতরের এবং প্রধান সড়কগুলো একেবারে ভাঙাচোরা ও যোগাযোগের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ পথচারী, যাত্রী এবং যানবাহন চালকদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের কার্পেটিং এবং নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো সড়কের এই দুরবস্থা দেখা দিয়েছে।
জমিন পরিদর্শনে ঘুরে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কোথাও কোথাও পাথর ও পিচ উঠে গিয়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। আবার কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় বিপজ্জনক গর্তের। ফলে এসব রাস্তায় প্রতিনিয়ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় যানবাহন চালকরা জানান, পুরো শহরের রাস্তা এতটাই বিপর্যস্ত যে যানবাহন চালাতে তাদের ভীষণ কষ্ট হয়, অটোরিকশা বা অন্যান্য গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রতিনিয়ত নষ্ট হয় এবং প্রায়শই ছোট-বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়।
নগরবাসীর অভিযোগ ও দুর্ভোগের বিষয়ে যদিও সিটি করপোরেশন কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলছে। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিম্নমানের রাস্তা নির্মাণকাজে নিয়োজিত ঠিকাদার এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন জানান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত জরাজীর্ণ কিছু কিছু রাস্তা নতুন প্রকল্পের আওতাধীন রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এগুলোর টেকসই পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে কুসিকের ২৭টি ওয়ার্ডে রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ২০২২ সালে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার বিশাল একটি মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে এত বড় অঙ্কের বাজেট খরচ করা সত্ত্বেও নগরবাসী এর খুব একটা সুফল পায়নি বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে কুমিল্লা শহরের সিটি করপোরেশনের অন্তর্গত প্রধান প্রধান সড়কগুলো দ্রুত মানসম্মতভাবে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করে দীর্ঘদিনের এই তীব্র জনদুর্ভোগ দূরীকরণ আদৌ সম্ভব হবে কি না—তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন নগরবাসীর মনে।