ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

অক্সিজেনের অভাব

এক রাতেই ৮-১০ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি, দিশেহারা চাষি


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৩:২৬ পিএম

যশোর প্রতিনিধি 

যশোরের শার্শা উপজেলার সোনামুখো বিলে অক্সিজেন সংকটে একটি মৎস্যঘেরে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা গেছে। এক রাতের এই বিপর্যয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামার মালিকরা। এতে দুই উদ্যোক্তা প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি খামারের ওপর নির্ভরশীল প্রায় অর্ধশত পরিবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

খামারের উদ্যোক্তা আলফাজুল হক ও ঘের তত্ত্বাবধানকারী সাকের আহম্মেদ জানান, শুক্রবার দিনভর প্রচণ্ড তাপদাহ ছিল। রাতে বাতাসের গতিও ছিল কম। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়। শুক্রবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে শার্শার বাহাদুরপুর-সোনামুখো বিলে প্রায় ৩০০ বিঘা আয়তনের এই মৎস্য খামারে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। এরপর ঘেরের মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠতে শুরু করে।

শনিবার সকালে বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মরা মাছ পানিতে ভেসে উঠে ঘেরের কিনারে জমা হয়। একসঙ্গে এত মাছ মারা যাওয়ার দৃশ্য দেখে খামারের মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয়রা হতবাক হয়ে পড়েন।

ঘেরটির মালিক মফিজুর রহমান স্বজনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে গত বছর থেকে এ এফ মৎস্য খামার পরিচালনা করছেন। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন সেখানে মাছ চাষ করছেন।


খামার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ঘেরে প্রায় ৬০ লাখ পিস পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার মণ হওয়ার কথা ছিল। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি মণ পাবদা মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে শুধু মাছের বাজারমূল্যই প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা বলে দাবি খামার মালিকদের।

খামার মালিকরা জানান, মাছগুলো উৎপাদনের পর ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও চলছিল। কিন্তু অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রাতারাতি বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় তাদের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এক খামারি বলেন, মাছের খাদ্য বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বাকি রয়েছে। এখন মাছ মারা যাওয়ায় সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন এবং কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

এক রাতের বিপর্যয়ে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খামার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। এই খামারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় অর্ধশত পরিবারও এখন আয়-রোজগার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

মাছের মড়কের খবর পেয়ে শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

খামার উদ্যোক্তারা আকস্মিক এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের কাছে সহজ শর্তে ঋণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে মৎস্যঘেরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর