ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:০৬ পিএম

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকট ও চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগে এক ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। প্রতিটি বস্তায় ছিল ৫০ কেজি করে সার। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কয়েক দফা ডিলারের কাছে গিয়েও তারা প্রয়োজনীয় সার পাননি। অথচ খোলাবাজারে বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছিল। এতে কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা দলবদ্ধ হয়ে ডিলারের গুদামে গিয়ে দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার সরবরাহের জন্য তিলাই ইউনিয়নের ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের নামে মোট ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চলতি আমন মৌসুমের জন্য ডিলার ৩৪০ বস্তা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গুদামে রাখেন।

কৃষকদের দাবি, গুদামে সার থাকার পরও তারা কয়েকবার সেখানে গিয়ে সার পাননি। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। রোববার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা একত্র হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দেন। বাকি সার উদ্ধারে অভিযান ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।


ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় সারের চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩২০ বস্তা। আবার বরাদ্দের তুলনায় ডিলারের সার উত্তোলনও কম ছিল। ফলে সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে তারা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান।

তিনি বলেন, কৃষকেরা মোট ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩৩ বস্তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার জানান, শাহ আমানত ট্রেডার্সের নামে ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা সার কৃষকেরা গুদাম থেকে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় বেশ কিছু সার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ইতিমধ্যে অনেকগুলো সারের বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন।

এদিকে কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, তারা একাধিকবার ডিলারের কাছে গিয়েও সার পাননি। তাদের অভিযোগ, ডিলারের গুদামে সার না থাকলেও খোলাবাজারে তুলনামূলক বেশি দামে সার পাওয়া যাচ্ছিল। এ কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর