ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: রাঙামাটিতে ডিআইজি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৫৫ পিএম

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

মাদককে সমাজের অন্যতম প্রধান সমস্যা ও বিভিন্ন অপরাধের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশের বক্তারা। তারা বলেন, মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সোমবার সকাল ১১টায় রাঙ্গামাটি জেলা শহরের তবলছড়ি মিনিস্টারিয়াল ক্লাব থেকে মাদকবিরোধী একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন, রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লে: ক: একরামুল রাহাত, পিএসসি, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ এবং শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: মুজিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব পিপিএম।

সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে পরিবার ও সমাজকে এর বিরুদ্ধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে তরুণ প্রজন্মসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; পরিবার ও সমাজের সচেতনতাই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সন্তান মাদকাসক্ত হলে পরিবারের সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে দল-মত নির্বিশেষে মাদক ব্যবসায়ী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আইনি ছাড় না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। মাদক মামলার আসামিদের জামিনের ক্ষেত্রেও আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন।

প্রধান আলোচক ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, মাদককে সমাজ থেকে নির্মূল করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, মাদকের পুরো সরবরাহব্যবস্থা নির্মূল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি কিংবা মাদক অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ডিআইজি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানকে সর্বাত্মক যুদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও পারিবারিক নির্যাতনের মতো বিভিন্ন অপরাধের পেছনে মাদকের প্রভাব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সমাবেশ, র‍্যালি ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি সদর জোন কমান্ডার লে: ক: একরামুল রাহাত বলেন, কাপ্তাই-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে নিয়মিত দেশীয় ও বিদেশি মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। মাদক গ্রহণের কারণে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক সহিংসতা তৈরির বিভিন্ন ঘটনা ঘটে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দেন তিনি।

সমাবেশে অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ বলেন, সমাজ থেকে মাদক ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। স্কুল-কলেজের সামনে ইভটিজিং প্রতিরোধ এবং এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ ও কমিউনিটি পুলিশকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি সামাজিকভাবে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করার পরামর্শ দেন।

সমাবেশ শেষে বক্তারা মাদকমুক্ত ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর