ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২০০ এর বেশি হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:১৪ এএম

কলকাতায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা বিধি না মানায় একের পর এক হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে দুইশর বেশি হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আচমকা এই পদক্ষেপের ফলে চরম ভোগান্তি ও বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই পর্যটক সুরক্ষায় কঠোর জিরো টলারেন্স অবস্থান নেওয়ার কথা জানায় স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার পরপরই নিউমার্কেট থানার পুলিশ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে চারপাশজুড়ে অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালে দেখা যায়, অধিকাংশ হোটেলেই জরুরি ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অ্যালার্ম বা বিপদের সময় বের হওয়ার জরুরি সিঁড়ি নেই। এমনকি ফায়ার অডিট এবং প্রয়োজনীয় পুলিশ পারমিশনের মারাত্মক অভাব লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১টি হোটেল এবং ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি অমান্য করায় বেশ কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

হোটেল সিলগালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ কাটার কারণে নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান করা বাংলাদেশি পর্যটকরা চরম সংকটে পড়েছেন। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটকের মধ্যে শুধু নিউমার্কেট এলাকাতেই রয়েছেন অন্তত সাত হাজার জন। আবাসন সংকটে পড়ে অনেকেই তড়িঘড়ি করে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকে নতুন আশ্রয়ের খোঁজে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ছুটছেন। এই সুযোগে কিছু অসাধু হোটেল মালিক থাকার ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

এই নজিরবিহীন অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলকাতার পর্যটন ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। এই পুরো অঞ্চলটির অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্ত খুলে যাওয়ার পর পর্যটক প্রবাহ সবেমাত্র বাড়তে শুরু করেছিল, কিন্তু এই সময়ে ঢালাওভাবে হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুরো ব্যবসায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিকে সমর্থন জানালেও হোটেল মালিকদের জরুরি ত্রুটি শুধরে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পর্যটকদের জীবনের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং নিয়ম না মানা পর্যন্ত এই কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর