ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

কলকাতায় ২ দিনে বন্ধ ২০০ এর বেশি হোটেল, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:১৪ এএম

কলকাতায় মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা বিধি না মানায় একের পর এক হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ হিসেবে পরিচিত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে দুইশর বেশি হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আচমকা এই পদক্ষেপের ফলে চরম ভোগান্তি ও বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকেই পর্যটক সুরক্ষায় কঠোর জিরো টলারেন্স অবস্থান নেওয়ার কথা জানায় স্থানীয় প্রশাসন।

ঘটনার পরপরই নিউমার্কেট থানার পুলিশ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে চারপাশজুড়ে অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালে দেখা যায়, অধিকাংশ হোটেলেই জরুরি ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অ্যালার্ম বা বিপদের সময় বের হওয়ার জরুরি সিঁড়ি নেই। এমনকি ফায়ার অডিট এবং প্রয়োজনীয় পুলিশ পারমিশনের মারাত্মক অভাব লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১টি হোটেল এবং ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি অমান্য করায় বেশ কয়েকটি হোটেলের বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

হোটেল সিলগালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ কাটার কারণে নিউমার্কেট এলাকায় অবস্থান করা বাংলাদেশি পর্যটকরা চরম সংকটে পড়েছেন। বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটকের মধ্যে শুধু নিউমার্কেট এলাকাতেই রয়েছেন অন্তত সাত হাজার জন। আবাসন সংকটে পড়ে অনেকেই তড়িঘড়ি করে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকে নতুন আশ্রয়ের খোঁজে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ছুটছেন। এই সুযোগে কিছু অসাধু হোটেল মালিক থাকার ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

এই নজিরবিহীন অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলকাতার পর্যটন ও পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। এই পুরো অঞ্চলটির অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্ত খুলে যাওয়ার পর পর্যটক প্রবাহ সবেমাত্র বাড়তে শুরু করেছিল, কিন্তু এই সময়ে ঢালাওভাবে হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুরো ব্যবসায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিকে সমর্থন জানালেও হোটেল মালিকদের জরুরি ত্রুটি শুধরে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, পর্যটকদের জীবনের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং নিয়ম না মানা পর্যন্ত এই কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর