ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রামে লাখো আশেকে রাসুলের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস সাম্য ও মানবিকতার আদর্শে সমাজ গড়ার আহ্বান: আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন বেইজিংয়ের নাগালে মস্কোতে আকস্মিক অবতরণ করল মার্কিন সামরিক বিমান থাইল্যান্ডে নোঙর করছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন আইএমএফের জনবিরোধী শর্ত থেকে দূরে সরছে সরকার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ইয়েমেনের হোদেইদায় সরকারি বাহিনীর অভিযানে ১৪ হুথি নিহত বরিশাল-চট্টগ্রামসহ ৫ অঞ্চলে বৃষ্টির শঙ্কা, ১ নম্বর সতর্কতা জারি শিশুদের স্ক্রিন টাইম নিয়ে বদলে যাচ্ছে প্রচলিত বৈজ্ঞানিক ধারণা

বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১০:৩২ এএম

দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন, দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংকটের টেকসই সমাধান এবং পারস্পরিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দুই প্রভাবশালী নেতার এই বৈঠকের তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই কূটনৈতিক বৈঠকের পর সীমান্ত বিরোধের একটি ‘ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সম্পূর্ণ সম্মত হয়েছে চীন ও ভারত। উল্লেখ্য, পারমাণবিক শক্তিধর এবং বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল এই দুই প্রতিবেশী দেশ হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অনির্ধারিত এবং স্পর্শকাতর সীমান্ত ভাগাভাগি করে আসছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সীমান্ত জটিলতা ও দ্বিপাক্ষিক নানামুখী সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত বিস্তৃত, গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও আন্তরিক আলোচনা সম্পন্ন করেছেন। বৈঠককালে ওয়াং ই বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে চীন-ভারত সম্পর্ক এখন আর কেবল নিছক দ্বিপাক্ষিক আঞ্চলিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর বিশাল বৈশ্বিক ও বৈশ্বিক-কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এশিয়ার দুই বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা এবং সমস্ত মতপার্থক্য দ্রুত কমিয়ে আনা সময়ের দাবি। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর বেইজিং ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি ঘটেছিল। পরবর্তীতে চার বছরের টানটান সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিতর্কিত সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার ও টহল চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গত বছরগুলোতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইতিবাচক সংকেত হিসেবে গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায় সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীন সফর করেন, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত সংক্রান্ত কিছু নতুন জটিলতাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আবারও তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবারের বেইজিং বৈঠকে অজিত দোভালকে উদ্দেশ্যে করে ওয়াং ই আরও বলেন, উভয় পক্ষেরই অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ইতিহাস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো নেওয়া উচিত। সীমান্ত সমস্যাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি উপযুক্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ স্থানে রাখা প্রয়োজন, যাতে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের অগ্রগতি থমকে না যায়, পিছিয়ে না পড়ে কিংবা ভুল পথে চালিত না হয়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামী ২০২৭ সালে ভারতে সীমান্ত সংক্রান্ত পরবর্তী পর্বের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে দুই দেশই নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

(সূত্র: রয়টার্স)


এ সম্পর্কিত আরো খবর