মোঃ বাকি অনীক, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা নগরীর পরিবেশ ও সার্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা দিন দিন চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে নগরজুড়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের অসচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রতিদিন জনসম্মুখে আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। খোদ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরকারি বাসভবনে প্রবেশের রাস্তার মুখেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নোংরা নর্দমা ও জঞ্জাল। এ ছাড়া পুলিশ লাইন্স সংলগ্ন মেরী স্টোপস ক্লিনিকের সামনের আবাসিক ফটক, ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মূল ফটকের ঠিক উল্টো দিক, বাদুড়তলা এলাকার 'স্বপ্ন' সুপারশপের চারপাশ এবং ছোটরাসহ একাধিক এলাকায় যত্রতত্র ফেলা বর্জ্যের কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা না ফেলে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন স্থানগুলোতে এভাবে আবর্জনা ফেলার ফলে নগরীর পরিবেশ প্রতিনিয়ত নতুন করে দূষিত হচ্ছে।
সড়কের পাশে জমে থাকা এসব পচা ময়লার স্তূপ থেকে প্রতিনিয়ত প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে কোমলমতি শিশু ও পথচারীদের মধ্যে জটিল ও সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
শুধু শিশুরাই নয়, দৈনন্দিন প্রয়োজনে এসব সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বায়োজ্যেষ্ঠ ও বৃদ্ধ নাগরিকরাও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস এবং জমে থাকা বর্জ্য থেকে ছড়ানো জীবাণুর কারণে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। যত্রতত্র জমে থাকা এসব বর্জ্য নগরীর সার্বিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি প্রাচীন এই নগরীর স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিচ্ছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি থেকে দ্রুত নিস্তার চান কুমিল্লার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ। নগরবাসীর জোর দাবি, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যেন অনতিবিলম্বে এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একটি সুন্দর, নির্মল, দূষণমুক্ত ও নিরাপদ বাসযোগ্য কুমিল্লা নগরী উপহার দিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।