চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের লোকসান ও উৎপাদন বন্ধের সংকট কাটিয়ে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিশিল্পকে পুনরায় সচল ও সম্ভাবনাময় করে তুলতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বন্ধ থাকা ছয়টি চিনিকল পর্যায়ক্রমে চালু করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চিনিকল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামছুজ্জামান সুরুজ।
তিনি বলেন, উৎপাদনমুখী সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেকোনো মূল্যে সচল রাখা সরকারের অন্যতম মূল লক্ষ্য। বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো ধাপে ধাপে চালু করে চিনি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সার্বিকভাবে খাতটিকে লাভজনক ধারায় ফেরানোর সর্বাত্মক প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য সম্ভাবনাময় দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার।
বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, শুধু কলকারখানার মূল ফটক খুলে দিলেই সংকট মিটবে না; এর জন্য ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব যন্ত্রপাতি সংযোজন করা বাধ্যতামূলক। সেই সাথে কারখানার দক্ষ জনবলের তীব্র ঘাটতি পূরণে শিগগিরই নতুন নিয়োগ ও উন্নত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত মোট ১৫টি চিনিকলের মধ্যে শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর চিনিকলের উৎপাদন ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ থাকা এই মিলগুলো পুনরায় চালুর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ পর্যায়ে আখচাষ বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক গতিশীলতা ফিরে আসবে।
আখচাষিদের উদ্বুদ্ধ করার নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, চাষিদের সুবিধার্থে আখের মূল্য প্রতি কুইন্টাল ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আখচাষিদের জন্য বার্ষিক প্রণোদনার পরিমাণ ৬ কোটি টাকা থেকে একলাফে দ্বিগুণ করে ১২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আখের ওজন সম্পন্ন হওয়ার পর পরই ডিজিটাল উপায়ে চাষিদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাওনা অর্থ পরিশোধের তথ্য জানানোর প্রক্রিয়া সচল করা হয়েছে।
এ ছাড়া সফটওয়্যার প্রযুক্তির সাহায্যে প্রান্তিক আখচাষিদের সার্বক্ষণিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও আধুনিক চাষাবাদ সংক্রান্ত পরমর্শ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিএসএফআইসির আওতাধীন চিনিকলগুলোকে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, আধুনিক ও স্বনির্ভর অর্থনৈতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত মতবিনিময় সভায় বিএসএফআইসি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় আখচাষি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।