মাগুরার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মূল আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের দেওয়া ফাঁসির সাজা অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামির করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রায় প্রকাশ করেন।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ টানা প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষে দায়িত্ব পালন করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কু্দ্দুস কাজল এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। বিচারপ্রক্রিয়ার এ রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আদালতের নথি ও ঘটনা বিবরণীসূত্রে জানা যায়, পবিত্র রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয় শিশু আছিয়া। শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটির অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠন, ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ৭ মে রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে ১৭ মে মূল আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান অপর তিন আসামি— সজীব শেখ, তার ছোট ভাই ও মা জাহেদা বেগম। পরবর্তী নিয়মানুযায়ী হাইকোর্টে নথি প্রেরণের পর পেপারবুক তৈরি শেষে বিশেষ বেঞ্চের অধীনে সম্পন্ন হয় এই চূড়ান্ত রায় প্রদান।