ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম হওয়া ২৫০ জন এখনও নিখোঁজ, মিলল প্রাথমিক সত্যতা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:৫৩ পিএম

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এমন প্রায় ২৫০ জনের গুম হওয়ার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, এসব ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেই অপহরণের শিকার হয়েছেন এবং তদন্তের মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুমের এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।

গুম সংক্রান্ত মামলাগুলোর বর্তমান অগ্রগতি প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিখোঁজ প্রায় ২৫০ জন ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে এবং গুম হওয়া ২৫০ জনের কারও সন্ধান এখনও মেলেনি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়ার পাশাপাশি অপহরণের স্থানগুলো চিহ্নিত করছেন। সূক্ষ্ম ও নিখুঁত তদন্ত নিশ্চিত করতেই কিছুটা সময় লাগছে জানিয়ে তিনি বলেন, গুমের এই ঘটনাগুলোকে চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রতিটি পরিবারের অভিযোগ আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

গুমের বিচারে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য করা হবে না বলে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক কিংবা হিন্দু বা মুসলিম সম্প্রদায়ের—তা বিচারে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই দেখা হবে। বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী এবং ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমানসহ বেশ কয়েকটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার কার্যক্রম চলছে। একইভাবে সুমন ও বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ বাকি সব নিখোঁজ ব্যক্তির গুমের বিচারও একই নিরপেক্ষ মাপকাঠিতে সম্পন্ন করা হবে।

তদন্ত জোরদার করতে ইতোমধ্যে গুমের মামলাগুলোর জন্য একটি বড় বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আগে একজন কর্মকর্তা কাজ করলেও এখন পাঁচ সদস্যের একটি দল এই তদন্তের দায়িত্বে রয়েছে এবং চিফ প্রসিকিউটরসহ অন্য প্রসিকিউটররা এতে সরাসরি সমন্বয় করছেন। এর মাধ্যমে দ্রুতই দৃশ্যমান ফলাফল আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এর আগে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম 'মায়ের ডাক'-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চিফ প্রসিকিউটরের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠককালে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে গুমের ঘটনাগুলোকে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষভাবে বিচার সম্পন্ন করার বিনীত অনুরোধ জানানো হয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর