ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফাঁসি ছাড়া অন্য কোনো রায় মেনে নেব না: আছিয়ার মা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:৫৫ পিএম

মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড ছাড়া অন্য কোনো বিচার বা রায় মেনে নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিশুটির মা মোছা. আয়েশা বেগম। আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর হাইকোর্টের রায় ঘোষণার তারিখ পেছানোর পর মঙ্গলবার তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে চরম ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিচার পেতে বিলম্ব হওয়ায় তার সঙ্গে ছলনা করা হচ্ছে। অসচ্ছলতার কারণে সঠিক বিচার থেকে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন নিহত শিশুর মা।

মঙ্গলবার হাইকোর্টে এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণার নতুন তারিখ আগামী সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্ধারণ করেন। রায় পেছানোর আবেদনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক আদালতকে জানান, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল নিজে শুনানি করেছেন। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় রায়ের সময় পেছানো প্রয়োজন। পরে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে নতুন দিন ধার্য করেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ রাতে নির্মম ধর্ষণের শিকার হয় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা চালান। মারাত্মক আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন শেষ পর্যন্ত ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং ২৩ এপ্রিল বিচার কাজ শুরু হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গত বছরের ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে পাঠাতে হয়। সেই প্রথা অনুযায়ী নথিপত্র হাইকোর্টে আসার পর পেপারবুক প্রস্তুত করে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করা হয়। শুনাকাজ শেষে হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের জন্য তারিখ ধার্য হলেও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের কারণে তা পুনরায় পিছিয়ে গেছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে আরও অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর