কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে হুইলচেয়ার, শ্রবণযন্ত্র, চশমাসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এসব উপকরণ শিক্ষার্থীদের চলাফেরা, শিক্ষা গ্রহণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের হাতে এসব সহায়ক উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আফরোজ মারলিজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন, সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে মোট ১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি হুইলচেয়ার, ৩টি শ্রবণযন্ত্র, ২টি স্ক্র্যাচ এবং ২টি চশমা। প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের এসব উপকরণ দেওয়া হয়।
উপকরণ পেয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, এসব সহায়ক সামগ্রী শিশুদের চলাফেরা সহজ করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত হতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে।
অভিভাবকেরা বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ অনেক পরিবারের পক্ষেই ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করা কঠিন। সরকারি উদ্যোগে এসব সামগ্রী পাওয়ায় তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে বাস্তব সুবিধা হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি তাদের মৌলিক অধিকারও। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনে তাদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মূলধারার শিক্ষা ও সামাজিক জীবনে সম্পৃক্ত করা গেলে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। পাশাপাশি তারা নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সহায়ক উপকরণ বিতরণের মতো উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।