ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৮:১১ পিএম

দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই এবং কৃষকদের চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, কৃষকদের যেন সারের ঘাটতির মুখে পড়তে না হয়, সে জন্য বিপুল পরিমাণ সার আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দেশের সার মজুত, বিতরণব্যবস্থা ও কৃষকদের কাছে সার পৌঁছানোর বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুদামে মোট ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টনের বেশি সার মজুত রয়েছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে দেশে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত ছিল। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার সারের মজুত পরিস্থিতি ভালো রয়েছে বলে জানানো হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আরও সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

তবে সার বিতরণব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম ও সাময়িক সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। এ কারণে সরকার কৃষক ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় বিতরণব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, কোনো কোনো ডিলার তাদের বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করছেন না। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে সার নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে সরকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি বেশি দূর এগোবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সার বিতরণে নতুন প্রক্রিয়া চালুর ফলে শুরুতে কিছুটা সমন্বয়হীনতা তৈরি হতে পারে। তবে এর উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে সার পৌঁছে দেওয়া। কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার বিতরণব্যবস্থার প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। তিনি বলেন, গ্যাসের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে যেতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্তমান অবস্থার চেয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

তিনি জানান, গ্যাস খাতে বিদ্যমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি করার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্যসচিব মাহবুবা ফারজানা এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিতরণব্যবস্থায় যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর