ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপগঞ্জে গ্রামীণ সড়কের অগ্রাধিকার নির্ধারণে কর্মশালা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৭:৪০ পিএম

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক, সড়কের অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও যাচাইকরণবিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উপজেলা মিলনায়তনে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন। এতে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম, বেটস কনসাল্টিং সার্ভিসেস লিমিটেডের জিআইএস এনালিস্ট ধরণী চাকমা, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক হাজী বাছির উদ্দিন বাচ্চু এবং ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া সভায় ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন, আব্দুর রাজ্জাক শিকদার, গোলাকান্দাইল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মতিন এবং মুড়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রূপগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিউল আলম।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে গ্রামীণ সড়ক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জিআইএস-ভিত্তিক এ পরিকল্পনার আওতায় আরসিআইপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

বক্তারা জানান, কোর রোড নেটওয়ার্ক হলো একটি সড়ক নেটওয়ার্কের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অংশ। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর যাতায়াত ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এসব সড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সড়কগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

কর্মশালায় আরও বলা হয়, পরিকল্পিত কোর রোড নেটওয়ার্ক গ্রামীণ এলাকার টেকসই উন্নয়নকে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে। এর ফলে গ্রামীণ মানুষের প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশাধিকার আরও সহজ হবে।

বক্তারা বলেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে এবং পরিবহন ব্যয় কমবে। পাশাপাশি প্রত্যন্ত এলাকার সড়কগুলো বৃহত্তর পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হলে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সহজ হবে।

কর্মশালায় গ্রামীণ সড়কের বর্তমান অবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চিহ্নিতকরণ, অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কোর রোড নেটওয়ার্ক নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

তারা বলেন, একটি কার্যকর ও টেকসই গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নই ঘটাবে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের সুযোগ-সুবিধা বাড়াবে। এজন্য পরিকল্পিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর