ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬,  ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলায় ‘হাতকাটা কাশেম’ ৫ দিনের রিমান্ডে


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:৪৯ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেমকে’ পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম পাঁচ দিনের রিমান্ডের এই আদেশ প্রদান করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক আরিফ রেজা আদালতের এই রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নথি পর্যালোচনা সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কাশেমকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তার জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তা না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান আসামির সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

মঙ্গলবার নির্ধারিত দিনে রিমান্ড শুনানিকালে আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, মামলার মূল ঘটনা ঘটেছিল ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল এবং দীর্ঘ সময় পর ২০২৪ সালে মামলাটি দায়ের করা হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে তৎকালীন প্রচারণায় অংশ নিতে কারওয়ান বাজার এলাকায় যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেখানে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কারওয়ান বাজার এলাকায় তাঁর গাড়িবহরে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বর্বরোচিত হামলা চালায়।

রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী শুনানিতে উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাশেম ও তার সহযোগীরা বেগম খালেদা জিয়াকে চিরতরে শেষ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই হত্যাচেষ্টা চালায়। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পেছনের মূল কুশীলব ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে আসামিকে সর্বোচ্চ মেয়াদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জোর দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা এবং মনির হোসাইন সুমন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন পেশ করেন। তারা দাবি করেন, আসামির বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং কেবল হয়রানি করতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, আসামি শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এবং তার একটি হাত কাটা থাকায় তিনি অন্যের ওপর নির্ভরশীল; ফলে কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামায় জড়ানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি কাশেম নিজেও তাঁর পায়ে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি জানান। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রয়োজনে তাকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের করার জন্য আদালতের কাছে অনুরোধ জানান। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও শুনানির সার্বিক বিষায়াদি পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল কারওয়ান বাজার এলাকায় বেগম খালেদা জিয়াকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’ চালানো ওই হামলার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মামলা দায়ের করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান প্রধান অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর