জামালপুর প্রতিনিধি
বাস ভাঙচুর এবং স্টাফদের মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জামালপুর-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসে আটকে পড়েছেন শত শত সাধারণ যাত্রী। হঠাৎ করে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়া বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে ও সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে চাওয়া সাধারণ মানুষ।
পরিবহন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট রাত আনুমানিক ৭টার দিকে জামালপুর সদর উপজেলার লাহেরীকান্দা এলাকায় রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে বাসটি উল্টে অটোরিকশার ওপর পড়ে চারজন নিহত হন এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। এই সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার নান্দিনা এলাকায় স্থানীয় কিছু লোক রাজীব পরিবহনের বাস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন চলাকালে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন ঢাকা থেকে জামালপুরের উদ্দেশ্যে আসা রাজীব পরিবহনের দুটি বাসে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
তবে বাস চালক ও পরিবহন কর্মীদের দাবি, স্থানীয়রা বাসগুলোতে ব্যাপকভাবে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং বাসের স্টাফদের মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে তারা বাস চালাতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাস ভাঙচুর ও স্টাফদের ওপর হামলার প্রতিবাদে, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জামালপুর থেকে ঢাকা রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি। এর ফলে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে কোনো দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি।
সকালে গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে টার্মিনালে এসে অসংখ্য যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে ছোট ছোট যানবাহনে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন। তবে এই সুযোগে সিএনজি বা মাইক্রোবাস চালকরা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। আবার স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, রাজীব পরিবহনের বেপরোয়া গতির কারণেই জামালপুর-ময়মনসিংহ রুটে প্রায় সময়ই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
আলিফ নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী তার ক্ষোভ ও দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, "দুপুর ৩টায় ঢাকার হেড অফিসে সব জেলার প্রতিনিধি নিয়ে আমাদের মিটিং আছে। সকালে বাস টার্মিনালে এসেছিলাম বাসে করে ঢাকায় যাব বলে। বাসে উঠলে দুপুর ১টার মধ্যে ঢাকা পৌঁছাতে পারতাম। কিন্তু এসে দেখি বাস বন্ধ, আবার এ সময় কোনো ট্রেনও নেই। মাইক্রোবাসে ঢাকা যাওয়ার জন্য ৬ হাজার টাকা ভাড়া চাচ্ছে। ৫০০ টাকা ভাড়ায় যাব বলে বের হয়েছি, এখন এত টাকা দিয়ে যাওয়া কি সম্ভব? আমার মতো এখানে অনেকেই চরম ভোগান্তির মধ্যে আছেন।"
বাস চলাচল বন্ধের বিষয়ে জামালপুর জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ জানান, "লোকেরা আমাদের বাস ভাঙচুর করছে এবং চালকদের বেধড়ক মারধর করছে। কোনো চালক ইচ্ছে করে দুর্ঘটনায় পড়ে না। আমরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। আমাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও সমাধান কল্পে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, "এ বিষয়ে আমরা বাস চালক ও মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই আলোচনা করে সাধারণ যাত্রীদের এই ভোগান্তি দূর করতে সক্ষম হব।" তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জামালপুর বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।