পরবর্তী
ছয় সপ্তাহের মধ্যে যেকোনো সময়ে ইরান আকস্মিক হামলা চালিয়ে বসতে পারে বলে এক আশঙ্কাজনক সতর্কতা
জারি করেছেন তিউনিশিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত জোয়ে হুড। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়কালকেই সম্ভবত তেহরান এই আক্রমণের জন্য
কৌশলগতভাবে বেছে নিতে পারে।
গত
শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে
মার্কিন সাবেক এই কূটনীতিক বর্তমান
বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, "নির্বাচনের সংবেদনশীল সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের চরম রাজনৈতিক বিব্রতকর ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির
মুখে ফেলার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইরানের। বিশ্ব রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সময়কাল থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ের সব মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের
ক্ষেত্রেই ইরান এই কৌশল অবলম্বন
করেছে।"
জোয়ে
হুড ভৌগোলিক রাজনীতি ও অর্থনীতির সংযোগ
ব্যাখ্যা করে আরও জানান যে, আগামী নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল—দুই দেশেই প্রায় একই সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল তথা পেট্রোলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য এই সময়টি ইরানের
জন্য এক বিরাট সুযোগ।
বিশ্ব রাজনীতির হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটাররা অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিষয়টি ঠিক তেমনই, যেমনটা আরব বিশ্বের সাধারণ ভোটাররা রুটি বা নিত্যপণ্যের দাম
বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গভীরভাবে স্পর্শকাতর হয়ে থাকেন।
বর্তমানে
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে
কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ আলোচনা বা কূটনৈতিক সংলাপ
কার্যকর নেই উল্লেখ করে সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত
বলেন, দুই দেশের মধ্যে এখন গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা
বিরাজ করছে। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে
আলোচনাকে পুনরায় সচল করতে হলে চমকপ্রদ কোনো বিশ্ব উদ্যোগ বা মধ্যস্থতা প্রয়োজন।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো যদি নতুন কোনো কার্যকারী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে না পারে, তবে
বর্তমান মধ্যস্থতা বা কূটনৈতিক তৎপরতার
খুব একটা সুফল পাওয়া যাবে না।
বিশেষ
করে 'মক্কা চুক্তি'তে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো
যদি এই সংকট নিরসনে
যৌথ উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে, তবেই একটি কূটনৈতিক সমাধান বের হতে পারে বলে মনে করেন জোয়ে হুড। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, মক্কা চুক্তির অন্তর্ভূক্ত দেশগুলো যদি তাদের যৌথ নৌবাহিনী পারস্য উপসাগর ও উত্তর আরব
সাগরে মোতায়েন করে এবং নিশ্চিত করে যে তারা হরমুজ
প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা প্রদান
করবে, কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হতে দেবে না এবং সেখানে
মার্কিন নৌ-অবরোধেরও আর
কোনো প্রয়োজন নেই—তবেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর একটি স্থায়ী
সমাধান সম্ভব।
সূত্র:
আলজাজিরা।