ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট, চরম ভোগান্তিতে নিম্ন আয়ের রোগীরা


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:২৮ পিএম

চন্দ্রনাথ গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়াবেটিস রোগের অতি জরুরি ওষুধ ‘মেটাফরমিন’ ও ‘গ্লাইক্লাজাইড’ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নিম্ন আয়ের অসচ্ছল রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডায়াবেটিসের প্রয়োজনীয় এই ওষুধগুলোর বিদ্যমান মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোগীদের মাঝে বিতরণ করতে অন্তত আরও দুই মাস সময় লেগে যেতে পারে।


স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের মজুদ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা দূর-দূরান্তের দরিদ্র ডায়াবেটিস রোগীরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তা ও বিড়ম্বনায়। প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিকট থেকে শুধুমাত্র সাধারণ শারীরিক পরামর্শ গ্রহণ করেই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন এসব সুবিধা বঞ্চিত রোগী।


হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র থেকে জানা যায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল সাধারণ রোগীদের বিনামূল্যে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারি বিশেষ উদ্যোগে একটি ডেডিকেটেড ডায়াবেটিস কর্নার চালু রয়েছে। উক্ত সেন্টারে সাধারণ রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি সরকারিভাবে সরবরাহকৃত প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়ে থাকে। গড়ে প্রতিদিন এই বিশেষ ডায়াবেটিস কর্নারে ৩৫ থেকে ৪০ জন ডায়াবেটিক রোগী নিয়মিত সেবা গ্রহণ করে থাকেন। নিয়ম অনুযায়ী এখান থেকে প্রত্যেকে রোগীকে এক মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ একসাথে প্রদান করা হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬৫৭ জন অসচ্ছল ডায়াবেটিস রোগী এই কর্নার থেকে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ গ্রহণ করেছেন। তবে ২১ জুলাই থেকে সরকারি ও অভ্যন্তরীণ মজুদ পুরোপুরি ফুরিয়ে যাওয়ায় সেবা নিতে আসা রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।


হাসপাতালের ডায়াবেটিস কর্নারে সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল আকাশ আক্ষেপ করে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিনামূল্যে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ পাওয়ায় দরিদ্র পরিবারগুলোর অনেক বড় উপকার হতো। তবে বর্তমানে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে অতিরিক্ত মূল্যে ওষুধ কিনে খেতে হবে, যা তাদের সীমিত আয়ের সংসারে বড় ধরনের আর্থিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে।


একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অপর এক ভুক্তভোগী রোগী ছকিনা বেগম বলেন, আমরা অসচ্ছল সাধারণ মানুষ। হাসপাতালের বিনামূল্যে সরবরাহকৃত ওষুধ খেয়ে আমাদের অনেক আর্থিক সাশ্রয় ও উপকার হতো। কিন্তু হঠাৎ হাসপাতালে এসে শুনছি ওষুধ নেই এবং কবে নাগাদ নতুন ওষুধ আসবে সে বিষয়েও কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারছে না। ফলে বাড়তি অর্থ খরচ করে বাইরে থেকে ওষুধ কেনা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।


হাসপাতালের ডায়াবেটিস কর্নারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স খাদিজা আফরোজ জানান, ডায়াবেটিসের গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলোর সরকারি মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নতুন সরকারি বরাদ্দ ও সরবরাহ পাওয়া মাত্রই পুনরায় নিয়মিতভাবে রোগীদের মাঝে আগের মতো ওষুধ বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে।


এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মশিউর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন মন্ত্রণালয় থেকে মূলত ‘মেটাফরমিন’ ও ‘গ্লাইক্লাজাইড’ নামের এই দুই পদের ডায়াবেটিক ওষুধের সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ নিজস্ব মজুদও পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। বিদ্যমান সংকট নিরসনে বর্তমানে হাসপাতালের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে ওষুধ ক্রয়ের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তবে দরপত্র বা টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওষুধ হাতে পেতে অন্তত আরও দুই মাস সময় লেগে যাবে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ হস্তগত হলে আগের মতো বিপুল পরিমাণে না হলেও সীমিত আকারে হলেও রোগীদের মাঝে বিতরণ পুনরায় শুরু করা হবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর