ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশিদের কঠোর সতর্কবার্তা দিলো হাইকমিশন


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৫৫ এএম

মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। দেশটিতে অনিয়মিত ও নথিবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগ প্রতিনিয়ত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় গ্রেফতার বা দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা এড়িয়ে মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া বিশেষ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত স্বদেশে ফিরে আসার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

রোববার মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় এই আহ্বান জানান কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) তরিকুল ইসলাম।

 

ভিডিও বার্তায় তরিকুল ইসলাম বলেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অনিয়মিত বা নথিবিহীন বিদেশি নাগরিকদের আইনসম্মত, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ উপায়ে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ করে দিতে মালয়েশিয়া সরকার 'মাইগ্র্যান্ট রিপেট্রিয়েশন প্রোগ্রাম ২.০' (পিআরএম ২.০) চালু করেছে। এই সরকারি কর্মসূচির পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করে নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের দ্রুত এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

 

কর্মসূচির আওতায় দেশে ফেরার জন্য প্রথম শর্ত হিসেবে আবেদনকারীর একটি বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যদি কারও পাসপোর্ট না থাকে কিংবা পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে তিনি কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে জরুরি ট্রাভেল পারমিট (টিপি) গ্রহণ করতে পারবেন।

 

পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিট সুনিশ্চিত করার পর আবেদনকারীকে নিজের নামে নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট গ্রহণের অন্তত পাঁচ দিন পর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে বিমান চলাচলের তারিখ নির্ধারণ করতে হবে।

 

আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে ব্যক্তিগতভাবে ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। আবেদনকালে সঙ্গে রাখতে হবে মূল পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার ফটোকপি, পূর্বেপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন পাসের কপি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন পাসপোর্টের কপি। সেই সঙ্গে নিশ্চিত বিমান টিকিট জমা দিতে হবে।

 

অবৈধ অভিবাসীদের উদ্দেশ্যে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে প্রেস সচিব তরিকুল ইসলাম বলেন, 'পিআরএম ২.০'-এর আওতায় আবেদনের জন্য কোনো দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী, অবৈধ প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে অর্থ প্রদান করার কোনো প্রয়োজন নেই। কেউ যদি দ্রুত কাজ করে দেওয়া কিংবা বিশেষ কোনো সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা দাবি করে, তবে তার থেকে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

 

মালয়েশিয়াজুড়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলমান থাকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের এই বার্তাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রবাসী সংশ্লিষ্টরা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অযথা অপেক্ষা না করে গ্রেফতার এড়াতে অনতিবিলম্বে নিজ নিজ এলাকার ইমিগ্রেশন অফিস অথবা বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য ও সহায়তা গ্রহণের জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর