দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দাউদপুর সীমান্ত দিয়ে ৬০ থেকে ৭০ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় শত শত গ্রামবাসীর জোরালো বাধার মুখে ভারতীয় বিএসএফের সেই চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে গেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর থেকে দাউদপুর সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, গত রোববার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের (বিজিবি ২০) দায়িত্বপূর্ণ আওতাধীন বিরামপুরের দাউদপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তের প্রধান ২৮৯/৫১এস এবং ২৮৯/৫৬এস নম্বর সীমানা পিলার থেকে মাত্র ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত 'নিচা গোবিন্দপুর' এলাকায় বর্তমানে ওই ৬০-৭০ জন নারী-পুরুষ বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করছেন। তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে বিএসএফ চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মইনুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে নিচা গোবিন্দপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফ একদল নারী-পুরুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর অপচেষ্টা চালায়। বিএসএফের গতিবিধি টের পেয়ে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে স্থানীয় গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে বিজিবি বিএসএফের ওই চক্রান্ত পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেয়। অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন এড়াতে বর্তমানে সীমান্ত জুড়ে বিজিবি সদস্য, গ্রাম পুলিশ, আনসার সদস্য এবং সাধারণ গ্রামবাসী চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সীমান্ত পাহারায় যুক্ত স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দা মাহাফুজুর রহমান দৃঢ়তার সাথে বলেন, "আমাদের জীবন থাকতে ভারতের কোনো মানুষকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা গ্রামবাসী লাঠি হাতে সারা রাত সীমান্ত পাহারা দেব, তবু বিএসএফের এই অন্যায় বরদাশত করা হবে না।"
বিজিবির সাহসিকতা ও সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফ একজন মানুষকেও বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাতে পারেনি বলে নিশ্চিত করেছেন দাউদপুর বিজিবি বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মাহাবুবুর রহমান। তিনি জানান, বিএসএফের অন্যায় পুশ ইনের বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রামবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। যৌথ বাধার মুখে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসা ওই অনুপ্রবেশকারী দলটি আর এক পা-ও সামনে এগোতে সক্ষম হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।