ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

দক্ষিণ ইরানের উপকূলে একের পর এক বিস্ফোরণ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:০০ এএম

দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সিরিক, মিনাব ও কেশম দ্বীপে এসব বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যম স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছে, বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ সমুদ্রের দিক থেকে এসেছে।

 

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সিরিকের কয়েকটি এলাকায় ‘শত্রুপক্ষের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল’ আঘাত হেনেছে। তবে এসব হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বা কোথায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সিরিকের পাশাপাশি মিনাব ও কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, বিস্ফোরণের শব্দগুলো সমুদ্রের দিক থেকে আসতে শোনা যায়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট স্থান কিংবা এর পেছনে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

 

এর এক দিন আগেও দক্ষিণ ইরানের জাস্ক শহরের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর প্রকাশ করেছিল ফারস। ওই ঘটনারও বিস্তারিত কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

সিরিক, মিনাব ও কেশম—এই তিন এলাকাই ইরানের হরমোজগান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় অঞ্চলটির সামরিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি এই প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়।

 

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে। এর মধ্যেই উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণ ও প্রজেক্টাইল আঘাতের খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

চলতি বছরের জুনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই সমঝোতার মাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথ পুনরায় চালু করার পাশাপাশি বৃহত্তর শান্তিচুক্তির পথ তৈরির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছিল।

 

তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে সেই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

 

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ইরানের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বিস্ফোরণের ঘটনা ওই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক অভিযান সরাসরি জড়িত কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

এদিকে সিরিক, মিনাব ও কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়লেও হতাহতের সংখ্যা, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হামলার প্রকৃত লক্ষ্য সম্পর্কে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের সরকারি ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই এসব ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিস্ফোরণের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


এ সম্পর্কিত আরো খবর