ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:২৭ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিপাইনে শতাধিক যাত্রী ও ক্রুবাহী একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫ জনের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটির কোস্ট গার্ড প্রকাশিত উদ্ধার অভিযানের সংগৃহীত ভিডিওতে দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ফেরিটির বিভিন্ন অংশ দাউ দাউ করে জ্বলছে এবং চারপাশ ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করার পাশাপাশি জীবিতদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসছেন।

 

ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের প্রাতিষ্ঠানিক মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবিয়াব স্থানীয় রেডিও স্টেশন ডিজেডএক্সএল-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দুর্ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফেরিটির দাপ্তরিক যাত্রী ও ক্রু তালিকা বা ম্যানিফেস্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে, এতে মোট ১১৭ জন সাধারণ যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য অবস্থান করছিলেন। অর্থাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূচনাকালে ফেরিটিতে সর্বমোট ১৩৪ জন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া জীবিত যাত্রী ও উদ্ধারকৃত মরদেহের সংখ্যা হিসেব করে কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে যে, এখনও ৮০ জনেরও বেশি মানুষ সাগরে তলিয়ে নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় কোস্ট গার্ড ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলোর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান অবিরাম চলমান থাকায় নিহতের এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানান কমোডর নোয়েমি কায়াবিয়াব।

 

কোস্ট গার্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফেরিটি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার বাসেকো এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। এটি দেশের অন্যতম প্রধান সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র 'করোন'-এর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সমুদ্রের মাঝপথে ফেরিটিতে ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ঠিক কী কারণে কিংবা কীভাবে ফেরিটিতে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ল, তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ফিলিপাইনের কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট পরিবহন বিভাগ।

 

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং আনুমানিক ৮৬ জন যাত্রী এখনও সাগরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে চরম আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্র উপকূলে আহতদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক মেডিকেল ক্যাম্প গঠন করা হয়েছে। সেখানে আহত ও আতঙ্কগ্রস্ত মানুষদের হাসপাতালে নিতে সহায়তাকারী এক জরুরি উদ্ধার কর্মকর্তা উদ্ভূত মর্মান্তিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত 'হৃদয়বিদারক' বলে আখ্যায়িত করেছেন। সাগরে নিখোঁজদের সন্ধানে ড্রোন ও একাধিক উদ্ধারকারী জলযান নিয়ে তল্লাশি তৎপরতা জোরদার রাখা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর