ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে রাশিয়া প্রস্তুত নয়: মার্জ


জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৪০ এএম

ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ অবসানে রাশিয়া এখনো আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেও যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে রুশ সরকারের আগ্রহের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

বুধবার বার্লিনে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন ফ্রিডরিখ মার্জ। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে রুশ সরকার বা রুশ প্রেসিডেন্ট যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে গুরুতর আলোচনায় প্রবেশ করতে প্রস্তুত—এমন কোনো উল্লেখযোগ্য ইঙ্গিত তারা পাচ্ছেন না।

 

মার্জ বলেন, কয়েক মাস ধরেই জার্মানি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। জার্মান সরকার এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের উপায় কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবে রুশ সরকার যদি সংলাপ, আলোচনা ও কূটনৈতিক সমাধানের সব আহ্বানের প্রতি বন্ধ থাকে, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনা খুবই কম।

 

তিনি বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে জার্মানি তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করবে। যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা থেকে তারা কোনোভাবেই সরে যাবে না।

 

মার্জ আরও বলেন, ইউক্রেনকে জার্মানির দেওয়া সব ধরনের সহায়তার উদ্দেশ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা নয়, বরং যুদ্ধের অবসান ঘটানো। ইউক্রেনের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি যুদ্ধ শেষ করার জন্য বর্তমানে যে কূটনৈতিক পথগুলো খোলা রয়েছে, সেগুলোও পুরোপুরি কাজে লাগানো হবে।

 

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জার্মানি ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। দেশটি ইউক্রেনকে উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা, গোলাবারুদ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। একই সঙ্গে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নেও জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাও রাশিয়ার প্রতি যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এখন রাশিয়ার যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে; যুদ্ধকে আরও তীব্র করা বা দীর্ঘায়িত করার সময় নয়।

 

কস্তা বলেন, যুদ্ধ চলাকালীন যতদিন প্রয়োজন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে যাবে। শুধু যুদ্ধের সময় নয়, সম্ভাব্য আলোচনার ক্ষেত্রেও ইউক্রেনের পাশে থাকবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্তির পথেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

 

এ সময় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক ‘হাইব্রিড’ কর্মকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কস্তা। ড্রোনের ঘটনা, নাশকতা এবং যোগাযোগের তার ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার মতো ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান।

 

কস্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জার্মানি বর্তমানে এই নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার ‘সামনের সারিতে’ রয়েছে। তিনি লিপজিগে রুশ ড্রোন হামলার একটি প্রচেষ্টাসহ ইউরোপের বিভিন্ন সাম্প্রতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। এসব ঘটনায় জার্মানির প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সংহতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

কস্তা বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসী যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান পরিবর্তন করতে এ ধরনের হুমকি কোনোভাবেই সক্ষম হবে না। রাশিয়াকে বুঝতে হবে, ড্রোন, নাশকতা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার মতো কর্মকাণ্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিকে বদলে দেবে না।

 

এদিকে জার্মানির নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতে বাড়তি বিনিয়োগেরও প্রশংসা করেছেন আন্তোনিও কস্তা। তার মতে, ইউরোপের নিজস্ব সম্মিলিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টায় জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করলেও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের বক্তব্যে পরিস্থিতি নিয়ে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার পাশাপাশি ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখবে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

 

তবে রুশ সরকার আলোচনায় বসতে আগ্রহী না হলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা দ্রুত ফল দেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। ফলে যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি মস্কোর পরবর্তী অবস্থানের দিকেই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


এ সম্পর্কিত আরো খবর