ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ

পশ্চিম তীরে আরও ১,৬৭০ ইহুদি বসতি নির্মাণের উদ্যোগ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:৪২ এএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতিতে নতুন করে ১ হাজার ৬৭০টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশন বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। কমিশনের দাবি, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় নতুন এসব প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

 

কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। সম্প্রতি ১২টি পশ্চিমা দেশ ইহুদি বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে কমিশন।

 

ফিলিস্তিনি এই কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২২ সালের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরে ১০৪টি নতুন ইহুদি বসতি অনুমোদন করেছে। একই সময়ে ১৬০টি কৃষিভিত্তিক বসতি স্থাপনের চৌকি গড়ে তোলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

 

কমিশন বলেছে, নতুন আবাসন প্রকল্পগুলোর কয়েকটি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বেথলেহেমের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত মায়ালে আমোস বসতিতে ৩৬৫টি এবং রামাল্লার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তালমোন বসতিতে ২০০টি নতুন আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এ ছাড়া পশ্চিম তীরে একেবারে নতুন করে তিনটি ইহুদি বসতি এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এগুলো হলো রামাল্লা-নাবলুস সীমান্তবর্তী আমিহাই, জেরিকো এলাকায় আইন ইয়িতাভ এবং জেনিন এলাকায় মাওজ তজভি। এসব নতুন প্রকল্পে মোট ৭৪৯টি আবাসিক ইউনিট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পগুলোর জন্য ১ হাজার ১২৫ ডুনাম বা প্রায় ২৭৮ একর জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

কমিশনের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সালফিত এলাকায় পেদুয়েল বসতিতে ৯৫টি এবং আলেই জাহাভ বসতিতে ২৫৯টি নতুন আবাসিক ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ছাড়া জেরুজালেমের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গিভাত জিভ বসতিতে আরও দুটি ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের মতে, এসব পরিকল্পনা থেকে স্পষ্ট যে ইসরায়েল শুধু বিদ্যমান ইহুদি বসতিগুলোর আয়তন বাড়াতে চাইছে না, বরং পশ্চিম তীরজুড়ে নতুন ও স্থায়ী ইহুদি বসতি কেন্দ্রও গড়ে তুলতে চাইছে। কমিশন এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের আরও বিস্তৃত নীতির অংশ হিসেবে দেখছে।

 

১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরকে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক আইনে কোনো দখলদার রাষ্ট্রের নিজ জনগোষ্ঠীর সদস্যদের দখলকৃত ভূখণ্ডে স্থানান্তরকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমালোচনা ও বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান সত্ত্বেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম তীরে বিদ্যমান ইহুদি বসতিগুলোর সম্প্রসারণ এবং নতুন বসতি নির্মাণের কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে ইসরায়েল। নতুন ১ হাজার ৬৭০ আবাসিক ইউনিটের পরিকল্পনা সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও স্পষ্ট করছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কমিশন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


এ সম্পর্কিত আরো খবর