ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

চুরির ঘটনায় বারবার নাম বদল, ক্ষতিপূরণের চাপে স্যানিটারি মিস্ত্রি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৮:১১ পিএম

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি 

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অটোরিকশাচালকের বাড়িতে চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে। চুরির ঘটনায় এক যুবকের দেওয়া পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং এক ব্যক্তির ওপর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগকে ঘিরে এলাকায় দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।


গত ৭ জুলাই উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের কয়রাকুড়ি গ্রামের অটোরিকশাচালক খলিলুর রহমানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। ওইদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি পাশের ভটপুর গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। রাতে বাড়ি ফিরে দেখতে পান, ঘরের প্লাস্টিকের ওয়ারড্রোবের ড্রয়ারের তালা খোলা। সেখানে রাখা নগদ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় আট আনা স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়নি।


চুরির বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়। এ সময় একই গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে সোহান (১৯) চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণালঙ্কার ও চুরি যাওয়া অর্থের সন্ধান চালানো হলেও সেগুলোর হদিস পাওয়া যায়নি।


পরে সোহানের বক্তব্যে রাকিব নামে এক যুবকের নাম আসে। তবে রাকিবের বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এরপর সোহান একই এলাকার স্যানিটারি মিস্ত্রি মুক্তার হোসেনের নাম উল্লেখ করেন।


এ অবস্থায় মুক্তার হোসেনের ওপর চুরির দায় চাপিয়ে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় একটি পক্ষ তাকে চুরি যাওয়া টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুক্তার। তার দাবি, তিনি চুরির সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন।


বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তীব্র হলে গত ২৩ আগস্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওইদিন খলিলুর রহমানের বাড়িতে মুক্তারের মা রহিমা বেগম ও খালা ফরিদা বেগমকে বেঁধে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মুক্তারের বাবা মোহাব্বত আলী নালিতাবাড়ী থানায় খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।


অন্যদিকে খলিলুর রহমানও মুক্তার হোসেন ও সোহানের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা পরবর্তী সময়ে দুই পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বিরোধে রূপ নেয়।


মুক্তার হোসেনের অভিযোগ, তিনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হওয়ায় একটি পক্ষ তাকে চুরির ঘটনায় জড়িয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে। সোহানকে দায়মুক্ত করার উদ্দেশ্যেই তার নাম সামনে আনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।


খলিলুর রহমান বলেন, চুরির পর প্রথমদিকে তিনি কাউকে সন্দেহ করেননি এবং থানায় অভিযোগও করেননি। পরে সোহানের পরিবারের মাধ্যমে চুরির বিষয়টি সামনে আসে। তার ভাষ্য, সোহান প্রথমে নিজেকে ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেন এবং পরে রাকিব ও মুক্তারের নাম বলেন।


স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মুক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগে চুরির মতো কোনো অভিযোগ তাদের জানা নেই। তবে সোহানের বক্তব্য বারবার পরিবর্তন হওয়ায় প্রকৃত ঘটনা নিয়ে তাদের মধ্যেও সংশয় তৈরি হয়েছে।


এদিকে স্থানীয় একটি পক্ষ সোহানকে প্রভাবিত করে মুক্তারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে মুক্তারপক্ষ। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে চুরির ঘটনায় প্রকৃত অপরাধী কে, নাকি বিরোধের জেরে কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।


নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর