ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

একই স্কুলের ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ে, অভিভাবকদের ডেকে প্রশাসনের কড়া নিষেধাজ্ঞা


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:২২ পিএম

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় একই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর গোপনে বাল্যবিয়ে হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছাত্রীদের অভিভাবকদের কার্যালয়ে ডেকে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে সংসারজীবনে প্রবেশ না করে ছাত্রীদের অবিলম্বে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে প্রথম ধাপে ১১ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং বাল্যবিয়ে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।


জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক প্রধান সাকিবুর রহমান জানান, তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পারিবারিকভাবে গোপনে মৌখিক বিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রথমে ১১ জন এবং পরবর্তীতে অনুসন্ধানে আরও ২ জনসহ মোট ১৩ জন ছাত্রীর গোপনে মৌখিকভাবে বিয়ে হয়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে এই বিয়েগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক উৎসব বা আইনি রেজিস্ট্রি হয়নি; মূলত পারিবারিকভাবে বাগদান বা দেখাদেখি করে কথা দিয়ে রাখা হয়েছিল।


উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, ১৩ জন ছাত্রীর বিয়ের তথ্য পাওয়ার পর ১১ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবককে নোটিশ দেওয়া হয় এবং বাকি ২ জনের নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নোটিশের পর নির্ধারিত সময়ে ৮ জন ছাত্রীসহ মোট ১১ জনের অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হন। উপস্থিত অভিভাবকদের সাথে কথা বলে বাল্যবিয়ে বন্ধ রাখার বিষয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় এবং ছাত্রীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা জানান, একই বিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রীর বিয়ের বিষয়টি জানার পরপরই অভিভাবকদের ডেকে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা যেন সংসারে ফিরে না গিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসে এবং পড়ালেখা চালিয়ে যায়, সেই বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ছাত্রীদের উপস্থিতির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাস কুমার দাস, জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির প্রশাসনিক প্রধান সাকিবুর রহমান, তালা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুজ্জামান এবং ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেবসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর