ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপে হুতি যোদ্ধারা, বন্ধ সৌদির প্রধান তেল পাইপলাইন


  • আপলোড সময় : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৩৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপে পৌঁছে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই ইরাক থেকে আসা একটি ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সৌদি আরবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন। সাড়ে চার বছর ধরে চলতে থাকা সংঘাত এবং আঞ্চলিক এই চরম উত্তেজনার মুখে সংঘাত প্রশমনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো যখন থমকে দাঁড়িয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্ববাজারে বিকল্প তেল সরবরাহের মূল পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সংকটের মুখে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি খাত।

 

ইয়েমেন সরকারের বেশ কয়েকটি কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির উপকূলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপে অবস্থান জোরদার করেছে। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সামরিক বাহিনী উক্ত দ্বীপ থেকে নিজেদের অবস্থান গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগরের উপকূলীয় প্রধান শহর ধুবাবও নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে হুতি গোষ্ঠী। ধুবাব শহরটি পেরিম দ্বীপের ঠিক মুখোমুখি অবস্থানে হওয়ায় পুরো উপকূলীয় অঞ্চল ও কৌশলগত আন্তর্জাতিক প্রণালির ওপর হুতিদের সরাসরি ও শক্তিশালী একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বাব আল-মান্দেব অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। এই প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে গেলে আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের আরও একটি প্রধান পথ ইরানের পরোক্ষ প্রভাবে চলে যাবে। এতে করে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যে নজিরবিহীন ধস নামতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

অন্যদিকে, সৌদি আরবের কৌশলগত পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ইরাক ভূখণ্ড থেকে আসা একাধিক ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল তেল পাইপলাইনটি মূলত হরমুজ প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ পথ এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল বৈশ্বিক বাজারে নিরাপদে পৌঁছানোর প্রধানতম বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বিশ্লেষক ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, যা সমগ্র বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ।

 

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবহন অবকাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত ও বন্ধ হওয়ায় সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরাকভিত্তিক কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংঘটিত এই হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কৌশলগত কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে রিয়াদ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

 

এমন এক অস্থিতিশীল ও চরম ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা ও নিজেদের তেল অবকাঠামো সুরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জরুরি সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ফোনালাপে সরাসরি যোগাযোগ করে হুতিদের বিরুদ্ধে যৌথ ও কঠোর সামরিক অভিযানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ওয়াশিংটন সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে এখনই অংশগ্রহণ করতে রাজি না হয়ে কেবল গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

 

মার্কিন প্রশাসনের এই সতর্ক অবস্থান মূলত আগামী নভেম্বরের কংগ্রেসীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের ফসল বলেই মনে করছেন ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি অবশ্য জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা কেবল সৌদি নিবন্ধিত ও মালিকানাধীন জাহাজের ওপর কার্যকর থাকবে এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপদ থাকবে।

তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters) এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস (Axios)।


এ সম্পর্কিত আরো খবর