ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

মিরপুরে স্বর্ণ চুরির চাঞ্চল্যকর সিন্ডিকেট উন্মোচন

ফ্রান্সে বসে দুলাভাইয়ের সোনা চুরির ছক, দেশে বাস্তবায়ন শ্যালকের!


  • আপলোড সময় : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৯:৪৫ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

রাজধানীর মিরপুর মাজার রোডের হযরত শাহআলী শপিং কমপ্লেক্সে দুটি স্বর্ণের দোকানে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ও অভিনব চুরির নেপথ্যে এক আন্তর্জাতিক চোরচক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ভুয়া নাম, জাল জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে প্রথমে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে মার্কেটে চাকরি নেয় চক্রের সদস্যরা। এরপর দীর্ঘদিন ধরে চলা রেকি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাতের আঁধারে প্রায় ২৬০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুট করে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি। চুরিকৃত এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সাজানো এই বিশাল চুরির মূলে রয়েছে ফ্রান্সে বসবাসকারী সৈয়দ নাসির ওরফে 'ফ্রান্স নাসির' এবং তার সাবেক শ্যালক শামীম খানের যৌথ মাস্টারপ্ল্যান।

 

গোয়েন্দা সূত্রের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৫ জুলাই রাতে শাহআলী মার্কেটের 'এ হোসেন জুয়েলার্স' ও 'আল রাজ্জাক জুয়েলার্স' থেকে বিপুল পরিমাণ এই সোনা ও নগদ অর্থ চুরি হয়। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ফ্রান্সে বসে চুরির মূল পরিকল্পনার পাশাপাশি অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতেন সৈয়দ নাসির। আর দেশে চুরির জন্য সুনির্দিষ্ট টার্গেট নির্ধারণ ও লোক সংগ্রহের গুরুদায়িত্ব পালন করতেন তার সাবেক শ্যালক শামীম খান। তাদের এই সংঘবদ্ধ চক্রে ছিল বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কাজ ও দায়িত্ব ভাগ করা। যেমন কাউসার ওরফে কাউসার মাস্টার জাল পরিচয়পত্র বানিয়ে চক্রের সদস্যদের ছদ্মবেশে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিতে ঢোকাতেন, আবার চুরির সরঞ্জাম দিয়ে তালা কাটার মূল কাজটি করতেন রাজা মিয়া নামের এক পেশাদার সদস্য। প্রায় দেড় মাস ধরে বাজারটি রেকি করার পর চুরির সুবিধার্থে চক্রটির সদস্যরা দিনের পরিবর্তে রাতের শিফটে ডিউটি নেওয়া শুরু করে।

 

ঘটনার রাতে চুরির পথ সহজ ও সফল করতে চক্রটি ওই ফ্লোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিকিউরিটি গার্ড তোফাজ্জল হোসেনকে কৌশলে মিষ্টির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে অজ্ঞান করে দেয়। তোফাজ্জল চেতনা হারিয়ে পড়ে গেলে চক্রটি মার্কেটের মোট চারটি দোকানে চুরির চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে 'এ হোসেন জুয়েলার্স' থেকে ২০০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩ লাখ টাকা এবং পার্শ্ববর্তী 'আল রাজ্জাক জুয়েলার্স' থেকে ৬০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা লুট করতে সক্ষম হয় তারা। তবে 'নিউ প্রিন্স জুয়েলার্স' ও 'নূপুর জুয়েলার্স' নামের বাকি দুটি দোকানের মজবুত তালা ভাঙতে না পারায় ও সিসিটিভি নজরদারির কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পান ওই দুই দোকান মালিক।

 

চুরির পরই নিজেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে আত্মগোপনে চলে যায় চোরচক্রের সদস্যরা। তারা দয়াগঞ্জ-মিরহাজীরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান নিয়ে চোরাই মালামাল ভাগাভাগির পরিকল্পনা করেছিল। পরবর্তীতে ডিবি মিরপুর বিভাগ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছায়া তদন্ত চালিয়ে ফ্রান্সে থাকা মূল হোতা সৈয়দ নাসির ও শামীম খানসহ মোট ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তবে জাল কাগজপত্র তৈরিকারী কাউসার মাস্টার ও তালা কাটার কারিগর রাজা মিয়া এখনো পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের কাছ থেকে প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণ এবং বিপুল পরিমাণ ইমিটেশনের গহনা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

 

ডিবি গোয়েন্দা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন ও অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাজিদুর রহমান জানান, চক্রটির দেওয়া সমস্ত তথ্যই জাল হওয়ায় প্রাথমিক তদন্তে দারুণ বেগ পেতে হয়েছিল। এটি একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট, যারা নিরাপত্তা সংস্থায় ভুয়া তথ্য দিয়ে চাকরি নিয়ে পরবর্তীতে রাজধানীর কচুক্ষেত, হাতিরঝিল, রামপুরা ও মালিবাগের মতো একাধিক জায়গায় একই কায়দায় চুরি সম্পন্ন করেছে। যে সিকিউরিটি সংস্থা 'অ্যাভান্ট-গার্ড অ্যালায়েন্স লিমিটেড' এই ভুয়া নিরাপত্তাকর্মীদের কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিয়োগ দিয়েছিল, তাদের গাফিলতিও কঠোর তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর