আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা সংলগ্ন উত্তর-পূর্ব জাভা প্রদেশের তেলুকনাগা উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি অঞ্চলে ৬.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার শেষ রাতে ভূগর্ভের সুগভীর তলদেশে এই শক্তিশালী ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। আন্তর্জাতিক ভূবিজ্ঞান সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) এই ভূমিকম্পের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ভূগর্ভের অনেক গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল হওয়ায় প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তুর্কি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই ভূকম্পনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
ইউএসজিএসের প্রকাশিত হালনাগাদ উপাত্ত অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৪টা ২৩ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ২১:২৩ টা) এই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ভূকম্পনটির কেন্দ্র বা উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার (২২২ দশমিক ৮ মাইল) গভীরতায়। ভূবিজ্ঞান ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ভূপৃষ্ঠের বহু গভীরে বা প্রায় ১০০ কিলোমিটারের নিচে সৃষ্ট ভূকম্পনগুলোকে ‘ডিপ-ফোকাস’ বা সুগভীর ভূমিকম্প হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এই ধরনের ভূকম্পনের শক্তি ভূগর্ভের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও সরাসরি ভূপৃষ্ঠে কম্পনের তীব্রতা এবং ভয়াবহতা অনেকটাই হ্রাস পায়, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে মুহূর্তের জন্য চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও কোনো ধরনের সুনামি সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন হয়নি। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা এবং আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) উদ্ভূত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূকম্পন কবলিত উপকূলীয় ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সার্বিক পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে। তবুও যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানগত ও ভূপ্রাকৃতিক কারণেই ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা অগ্নিবলয়ের ওপর অবস্থিত। একাধিক সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে প্রায়শই ছোট ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে শুক্রবারের এই সুগভীর ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য না থাকায় বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো। (সংবাদ সূত্র: ইউএসজিএস ও আনাদোলু এজেন্সি)