সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা না করে সময়সূচি নির্ধারণ করায় বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশন নিজেদের এই সিদ্ধান্তকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হিসেবে দেখছে এবং শিগগিরই বৈঠক আহ্বান করে ভোটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
ইসির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে সাতটি ধাপে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ করেছিল কমিশন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী— প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের (২০২৭) ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপের ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য দিন রাখা হয় ২৭ মে। তবে দ্বিতীয় ধাপের নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বরে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে একই সময়ে পরীক্ষা বহাল থাকলে ওই দিনে ভোট আয়োজন করা শারীরিকভাবে অসম্ভব।
অন্যদিকে, ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন। সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী হওয়ায় সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বিষয় বিবেচনায় না এনে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করায় ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি সামনে এসেছে। ইসি মনে করছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে কমিশন সভায় উপস্থাপন করতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখগুলোতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যে আলোচনা ও পরামর্শ উঠে আসবে, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক কমিশন সভা ডেকে ইউপি ভোটের সময়সূচি চূড়ান্ত ও নতুনভাবে ঘোষণা করা হবে।