রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে চুরি হওয়া একটি গরু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এক স্থানীয় নেতার গোয়ালঘর থেকে উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিলে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গরুটি নিজেদের হেফাজতে নেয়। গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ৯ নম্বর ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের টিওড়ি গ্রামে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ভোলাকোট ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী নলচরা গ্রাম থেকে এক দিনমজুরের গৃহপালিত একটি গরু চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকে গরুর মালিকের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি চালাতে থাকেন। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ওয়ার্ড বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে চুরি যাওয়া গরুটি বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। এই খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক ও ক্ষুব্ধ জনতা দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে এবং আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন, যা একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির রূপ নেয়।
খবর পেয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হয় এবং বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে পুলিশ দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে গরুটি উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়। তবে চুরি যাওয়া গরুটি ঠিক কীভাবে এই বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে এল এবং এর সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন নিজের দায় অস্বীকার করে দাবি করেন, ৩ নম্বর ভাটরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর নলচরা ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক তাজু তিন দিন আগে ভোরে তাঁর গোয়ালঘরে গরুটি রেখে যান। তাঁকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিম মজুমদার জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী দেলোয়ার হোসেনকে শোকজ করা হয়েছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, তদন্তে কারও অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আকাশজমিন / আরআর