জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় উসকানি, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালের registrar (রেজিস্ট্রার) কার্যালয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে নাম থাকা অপর অভিযুক্তরা হলেন— ঢাবি অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সৈকত। রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন এবং তানবীর হাসান সৈকত গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তবে সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামাল ও লেখক ড. জাফর ইকবালসহ বাকি পাঁচ অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের জানান, তৎকালীন সময়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে আক্রমণ চালানো হয়েছিল, তাতে অভিযুক্তদের প্রত্যক্ষ উসকানি, পরিকল্পনা ও প্ররোচনা ছিল। বিশেষ করে ঢাবির সাবেক উপাচার্য মাকসুদ কামাল উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। যার ফলশ্রুতিতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও পুলিশ যৌথভাবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় লিপ্ত হয়। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।