মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানের অর্থনৈতিক তৎপরতা, অর্থ প্রবাহ এবং সামরিক ও কৌশলগত পণ্য সংগ্রহের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় বিশ্বের একাধিক শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইরান-সংশ্লিষ্ট গোপন তথ্য সরবরাহ করেছে, যাতে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে তেহরান কোনো ধরনের সুবিধা না নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত বিশেষ অভিযান 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট'-এর আওতায় বিশ্বজুড়ে এই সমন্বিত তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই স্পর্শকাতর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও আর্থিক অপরাধ
প্রতিরোধ বিষয়ক তদারকি সংস্থা ‘ফিনসেন’-এর (ফাইনান্সিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক) একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই তথ্য বিনিময়
কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ফিনসেনের জনপ্রিয় ‘এক্সচেঞ্জ’ কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে
বিশ্বজুড়ে সক্রিয় বিভিন্ন খ্যাতনামা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেন। এই বৈশ্বিক বৈঠকে
ইরানের মধ্যস্থতাকারী বিভিন্ন সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠান, ছায়া ব্যাংক ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্কগুলোর
সুনির্দিষ্ট কৌশল ও লেনদেনের পদ্ধতি
নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মার্কিন
অর্থ মন্ত্রণালয়ের গুরুতর অভিযোগ, এসব জটিল নেটওয়ার্ক ও মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবহার করে
ইরান এবং তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নানা উপায়ে আমেরিকার মূলধারার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের সুযোগ বাগিয়ে নিচ্ছে। পরবর্তীতে এই বৈশ্বিক ব্যাংকিং
চ্যানেলগুলো ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বেআইনি অর্থ পাচার, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও প্রযুক্তি সংগ্রহ
এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অর্থায়ন পরিচালনা করা হচ্ছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক
নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির
স্থিতিশীলতা চরম হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করে মার্কিন প্রশাসন।
ইরানের
বিরুদ্ধে নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপ
প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তেহরানের হাতে থাকা সব ধরনের অর্থনৈতিক
সুবিধা ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের
পথ চিরতরে বন্ধ করে দিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বিশ্বজুড়ে বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ অব্যাহত রাখবে। উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট
আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' নামক এই সর্বাত্মক অর্থনৈতিক
অভিযান শুরু করে। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য
ব্যবস্থা থেকে তেহরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলাই এই অভিযানের মূল
লক্ষ্য।
এই
নজিরবিহীন অভিযানের অংশ হিসেবে গত সোমবারও বড়
ধরনের নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক ‘ভিটিবি ব্যাংক’-এর ওপর অতিরিক্ত
ও বিশেষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের
এই সর্বাত্মক তৎপরতার ফলে ইরানের বৈশ্বিক লেনদেন ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।