আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয়ের শাস্তিস্বরূপ ভারতসহ বিশ্বের ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত কড়া রপ্তানি শুল্ক আরোপের পথ উন্মুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টিটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদে বহুল আলোচিত ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আইন’ বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়েছে। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটির পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে নজিরবিহীন এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপি এবং ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দুর পৃথক প্রতিবেদনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে ওই দিন ৪২১ জন প্রতিনিধি ভোটাভুটিতে সরাসরি অংশ নেন। চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণের পর দেখা যায়, নতুন এই আইনের পক্ষে রায় দিয়ে ভোট প্রদান করেছেন ২৬২ জন এমপি এবং বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভোট দিয়েছেন ১৫৯ জন এমপি। মার্কিন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে আগেই বিলটি পাস হয়েছিল। নিম্নকক্ষে পাসের মাধ্যমে বিলটি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ায় এটি এখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ও দাপ্তরিক সম্মতির জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করা মাত্রই বিলটি যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর আইনে পরিণত হবে।
প্রস্তাবিত এই কঠোর আইনের মূল বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো। তবে এই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যেসব দেশ রাশিয়ার কাছ থেকে নিয়মিত বিপুল পরিমাণে তেল ক্রয় করে চলেছে, তারা মূলত অর্থ জোগান দিয়ে এই যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে রাশিয়াকে পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করছে। এর ফলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়াশিংটনের বাজারে ওই সকল দেশের পণ্য প্রবেশের সময় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক বসাতে পারবে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের এই নজিরবিহীন শুল্কের মুখে পড়া বাকি ৯টি দেশ হলো চীন, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান এবং কিরগিজস্তান।