ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইফোন কাড়তেই কুবি শিক্ষকের ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার ৪ নুরজাহান ভিলায় শেষবারের মতো অপ্রতিম,কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা-বাবা রাজধানীতে নাশকতার প্রস্তুতি: মগবাজারে আওয়ামী লীগের দুই নেতা আটক চিকিৎসকের অবহেলায় বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিকে ভাঙচুর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকপুত্র অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন জাতীয় গ্রিডে তিতাসের ১২.৫ মিলিয়ন গ্যাস, প্রস্তুত হচ্ছে আরও ৩ কূপ ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ, আপিলে যাচ্ছে প্রসিকিউশন অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি পুলিশের, আইফোন উদ্ধার চার দিনে রাফিনিয়ার জোড়া হ্যাটট্রিক, জয়রথ ছুটছে বার্সেলোনার যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ এর গোপন যন্ত্রাংশ চলে গেল চীনের হাতে

সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:৪০ পিএম

স্টাফ রিপোর্টার 

দেশের সীমিত জাতীয় সম্পদকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের অপচয় রোধ করার জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তাদের প্রতি কড়া আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের অর্জিত সম্পদের প্রকৃত 'কাস্টোডিয়ান' বা রক্ষক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের সময় দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা এবং কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।


শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও চলমান প্রকল্প পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মন্ত্রী ড. মঈন খান স্পষ্ট করেন যে, দেশের অর্পিত সম্পদ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় প্রয়োজন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে একটি বাস্তবানুগ সমন্বয় ঘটাতে হবে। কম খরচে সবচেয়ে বেশি টেকসই ও কার্যকারী ফলাফল অর্জন করাই বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।


দেশের সামগ্রিক অবকাঠামো রূপান্তরে এলজিইডির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী ড. মঈন খান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী উদ্যোগে এলজিইডি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো আধুনিকায়নে এক যুগান্তকারী ধারার সূচনা করেছিল, যার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের পল্লি অঞ্চলের আর্থসামাজিক ও যোগাযোগের চিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমানে যেসব সময়োপযোগী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনা গ্রহণ করা হচ্ছে, তার সুফল আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে দেশের সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ভোগ করবে। তাই তৃণমূলের সাধারণ মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।


আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গ্রামীণ যোগাযোগ কাঠামোর আধুনিকায়ন ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগের মানোন্নয়নে প্রথাগত ইটের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে পরিবেশবান্ধব 'ইউনি ব্লক' ও 'সিসি ব্লক'-এর ব্যবহার প্রসারিত করতে হবে। বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত সংকীর্ণ গ্রামীণ সড়কগুলোতে ইটের বিকল্প হিসেবে এসব আধুনিক উপকরণ প্রয়োগ করার পাশাপাশি ভারী যানবাহন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে স্থায়িত্ব বিবেচনায় আরসিসি ঢালাই কিংবা উন্নত কার্পেটিং এবং দেশীয় পাথরের সঠিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া নদীতীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকার সড়কগুলোতে মাটির ক্ষয় রোধ নিশ্চিত করতে নদীর পাড়ে 'বিন্যা ঘাস' রোপণের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেন তিনি।


একইসঙ্গে স্থানীয় পর্যায় থেকে জ্বালানি সাশ্রয় ও রাজস্ব বাড়ানোর কৌশলী পরামর্শ তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও স্থানীয় হাটবাজারসহ সরকারের সকল স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রাঙ্গণে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন অনেকাংশে বাড়াতে হবে। এভাবে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ 'নেট মিটারিং' প্রক্রিয়ার আওতায় এনে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা গেলে বিদ্যুতের সামগ্রিক অপচয় ও ব্যয় হ্রাস পাবে, পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে সকল কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দপ্তর চত্বরে সোলার প্যানেল স্থাপন কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।


উক্ত পর্যালোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোঃ শহীদুল হাসান এবং এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ডিস্ট্রিক্ট এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা প্রকৌশলীবৃন্দ।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর