রাজধানীতে ২০ সেপ্টেম্বরের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ছক আঁকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
ঢাকা
মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মীমের নেতৃত্বে শুক্রবার রাতে রাজধানীর মগবাজার রেলগেট এলাকা থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন যশোরের শার্শা উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তথা একাধিকবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবং অন্যজন স্থানীয় যুবলীগ নেতা। পরবর্তীতে আটক দুই নেতাকে হেফাজতে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
পুলিশের
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকাসহ
সারাদেশে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসাত্মক তৎপরতা
চালানোর উদ্দেশ্যে এই চক্রটি রাজধানীতে
জড়ো হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ঘটনার সময়
তাদের সঙ্গে নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত বেশ কয়েকজন সহযোগী উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। কেবল নাশকতার ছকই নয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর
রাতে রাজধানীর মগবাজার মোড়সংলগ্ন চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশে ঘটে যাওয়া আতঙ্কজনক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি নিজেদের সম্পৃক্ত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন আটক এই দুই রাজনৈতিক
ব্যক্তি।
উল্লেখ্য,
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতের
দিকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে আকস্মিকভাবে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা নগরবাসীর মাঝে
তীব্র আতঙ্ক ও নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা
তৈরি করে। বিশেষ করে মগবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের পর থেকেই অপরাধীদের
শনাক্ত করতে তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইতোমধ্যে
পুলিশ দুর্ঘটনাস্থলগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনায় জড়িত পুরো নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করার চেষ্টা জোরদার করেছে। আটক দুই যুবলীগ নেতাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য আসামিদের অবস্থান চিহ্নিত করা এবং তাদের মূল নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।