জুলাই
সনদ বাস্তবায়ন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ এবং দেশজুড়ে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিসহ ৮ দফা কর্মসূচির
সমর্থনে রাজপথে বড় ধরনের শোডাউন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক
জোট। শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল দীর্ঘ সমাবেশের মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় দফার এই ঐতিহাসিক লংমার্চ
শুরু হয়েছে। দীর্ঘ পথের কাফেলাটি ঢাকা ছেড়ে উত্তর দিকের গুরুত্বপূর্ণ পথ অতিক্রম করে
শেষ পর্যন্ত রংপুরে গিয়ে পৌঁছাবে।
শনিবার সকাল
৭টায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লংমার্চ-পূর্ব সূচনা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১১ দলীয় ঐক্যের
হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানার, ফেস্টুন, প্লেকার্ড ও ব্যানার নিয়ে
সমাবেশস্থলে এসে সমবেত হতে থাকেন। ঢাকা শহরজুড়ে উৎসবমুখর অথচ কঠোর রাজনৈতিক মেজাজে গড়ে ওঠে এক বিশাল জনস্রোত।
কয়েক হাজার উপস্থিত নেতাকর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
লংমার্চের উদ্বোধনী
সমাবেশে সভাপতিত্ব ও মূল বক্তব্য
প্রদান করেন বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শাসনব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতেই জোটগতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা হয়েছে। জনগণের চাওয়া-পাওয়া ও দাবি বাস্তবায়নের
প্রশ্নে তাঁরা বিন্দুমাত্র পিছপা হবেন না। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে সকাল ঠিক ৮টায় জামায়াতের আমীর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল এই লংমার্চের শুভ
যাত্রা ঘোষণা করেন।
সমাবেশে উপস্থিত
হয়ে জোটের শীর্ষনেতারা সরকার ও বিদ্যমান পরিস্থিতির
তীব্র সমালোচনা করেন। বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, তিস্তা ব্যারেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ও জুলাই সনদের
বার্তা বাস্তবায়ন ব্যতীত দেশের কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।
মঞ্চে আরও
বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ
প্রধান এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চানসহ শরিক
দলগুলোর প্রতিনিধিরা। তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ও চাঁদাবাজি মুক্ত
সমাজ গড়তে এই রাজপথের সংগ্রাম
অব্যাহত থাকবে।
আয়োজকদের সূত্রে
জানানো হয়েছে, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে লংমার্চটি টঙ্গী, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল অতিক্রম
করে উত্তরবঙ্গের দিকে দ্রুত অগ্রসর হবে। পুরো পথযাত্রায় সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করা ও জোরালো বার্তা
পৌঁছাতে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথসভা করার বিশেষ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এই কর্মসূচীর মধ্য
দিয়ে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন জোটের নেতৃবৃন্দ।