ক্ষমতায়
এসে বিএনপি মানবাধিকার হরণ করছে: নাহিদ ইসলাম
বিগত
শেখ হাসিনা সরকারের মতোই রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণতন্ত্র ধ্বংসের
অভিযোগে ক্ষমতাসীন বিএনপির তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের
ঢাকা-রংপুর ঐতিহাসিক লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সরকারের এই ভূমিকার কড়া
সমালোচনা করেন এবং রাজপথের আন্দোলন জোরদার করার কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে
বক্তব্য প্রদানকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ষোল বছর
ধরে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার
পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে যে দীর্ঘ সংগ্রাম
পরিচালিত হয়েছিল, সেখানে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। অথচ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই বিএনপিই
এখন নিজেদের সুবিধার্থে গণতন্ত্র ধ্বংস করছে এবং জনগণের মানবাধিকার হরণ করে চলেছে। তিনি স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, অতীতে যারা জনগণের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার
হরণ করেছিল, তাদের পরিণতি কী হয়েছে তা
ইতিহাস সাক্ষী। স্বৈরাচারীদের চূড়ান্ত স্থান সবসময় ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েই হয়েছে।
জাতীয়
সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনের সিদ্ধান্ত ও আইনি পদক্ষেপের
সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বাধীন গুম কমিশনের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে সরকার সেই গণদাবিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সংসদে বিতর্কিত আইন পাস করেছে। এমনকি র্যাবের নাম
পরিবর্তন করে কেবল 'এসআরবি' গঠন করা হয়েছে, যা প্রকৃত মানবাধিকার
সুরক্ষায় কোনো ভূমিকা রাখছে না। সরকার কার্যত সাবেক শাসক এরশাদ ও শেখ হাসিনার
অনুসৃত নীতিতেই হেঁটে চলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শাসকগোষ্ঠীর পরিণতি
প্রসঙ্গে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদও অন্তত
সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করেছিলেন। ফলে এখন বিএনপি নেতৃত্বকেও নিজেদের ভবিষ্যৎ রাস্তা নির্ধারণ করতে হবে যে তারা সম্মানের
সঙ্গে স্বাভাবিক বিদায় নেবেন, নাকি শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টারে চড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন।
লংমার্চের
সার্বিক পরিস্থিতি ও বাধার চিত্র
তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলীয় জোটের
এই সুসংগঠিত লংমার্চকে নস্যাৎ করার জন্য বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে
ফেলেছে দুষ্কৃতকারীরা। তবে এ ধরনের অপচেষ্টার
মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও রাজপথের নতুন
রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া যাবে না। চট্টগ্রাম লংমার্চের অভূতপূর্ব সাফল্যের পর রংপুর অভিমুখে
জনস্রোত বহুগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি এটিকে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক
গণজোয়ার বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও জানান, জনগণের ক্রমবর্ধমান দাবির এই আন্দোলন শেষ
পর্যন্ত এক দফার চূড়ান্ত
সংগ্রামে পরিণত হবে।
উদ্বোধনী
এই মহাসমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর
আমীর ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ
প্রধান এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চানসহ শীর্ষ
নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে সকাল ৮টায় জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুরের উদ্দেশ্যে লংমার্চের শুভ সূচনা ঘোষণা করেন।