রাজধানীর
মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের
ঢাকা-রংপুর ঐতিহাসিক লংমার্চের সূচনা লগ্নেই সরকারবিরোধী আন্দোলনের নতুন কড়া বার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর
আমীর শফিকুর রহমান। দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও মানুষের চাহিদার
কথা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, জাতির যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে তাদের ঘোষিত ৮ দফা দাবি
শেষ পর্যন্ত এক দফা আন্দোলনে
পরিণত হতে পারে। এই আন্দোলন তীব্র
রূপ ধারণ করলে তার পরিণতি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত সংকটময় ও ভয়াবহ হবে
বলে তিনি সতর্ক করেন।
শনিবার
সকাল সাতটায় মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আয়োজিত সূচনা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমীর এসব কথা বলেন। ঢাকা থেকে রংপুরগামী এই বিশাল লংমার্চের
প্রথম সমাবেশে অংশ নিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই হাজার হাজার নেতা-কর্মী সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের
সড়কগুলোতে সমবেত জনতার বিপুল উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। পুরো এলাকা স্লোগান, ব্যানার ও ফেস্টুনে রাজনৈতিকভাবে
উত্তপ্ত পরিবেশে রূপ নেয়। বিরোধী দলগুলোর এই রাজনৈতিক তৎপরতা
রাজপথে নতুন মেরুকরণ ঘটাবে বলে মনে করছেন সমন্বয়করা।
সমাবেশে
বক্তব্য প্রদানকালে শফিকুর রহমান বিরোধী জোটের শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের
এই অভূতপূর্ব লংমার্চ দেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অনেকেরই মাথা গরম হয়ে গেছে। তবে আন্দোলন থেকে পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, জনগণের কাঙ্ক্ষিত অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দাবি আদায়ের
প্রশ্নে তাঁরা কোনো ভয়ভীতি বা বাধা পরোয়া
করবেন না। যদি সাধারণ প্রক্রিয়ায় জনগণের দাবি না মানা হয়,
তবে রাজপথের কঠোর সংগ্রামের মাধ্যমেই সকল ফয়সালা করা হবে।
একই
মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ
হুইপ নাহিদ ইসলাম বিদ্যমান সরকারের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিএনপি
সরকার সাধারণ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার চরমভাবে হরণ করে চলেছে। সরকারের একমুখী সিদ্ধান্ত ও শাসনের কারণে
দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত
আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সংক্ষিপ্ত
সমাবেশ শেষে বিপুল যানবাহন ও নেতাকর্মীদের বহর
নিয়ে রংপুরের উদ্দেশ্যে লংমার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পথজুড়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা ও গণসংযোগ কর্মসূচির
পরিকল্পনা রয়েছে। বিরোধী ১১ দলের শীর্ষ
নেতাদের এই সমন্বিত বার্তা
ও কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।