কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক ও বিষাদময় পরিবেশে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান নিহত কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশাসনিক সদস্য, অপ্রতিমের স্বজন এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। মোনাজাতকালে এক করুণ নীরবতা নেমে আসে পুরো প্রাঙ্গণে; উপস্থিত সবাই অশ্রুসজল চোখে অপ্রতিমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকবিহ্বল মায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জানাজার পূর্বে ও পরে আয়োজন সংক্রান্ত তথ্য গণমাধ্যমকে জানান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ কুমিল্লার গন্ধমতি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টায় গন্ধমতি ঈদগাহ ময়দানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন করার পর স্থানীয় গন্ধমতি এলাকাতেই অপ্রতিমকে দাফন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের একমাত্র সন্তানকে এভাবে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনানুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এদিকে মেধাবী এই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে রবিবারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে সাধারণ শোক ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শোক পালনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থগিত হওয়া এসব পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে নিজ নিজ বিভাগের নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। তবে বের হওয়ার পর থেকে সে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। স্বজনদের আকুল আকুতি ও খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পুলিশ সদস্যরা চারদিকে তল্লাশি শুরু করেন। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকালে কিশোরের মাথায় গুরুতর ও রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তদন্তকারীরা। অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
হত্যাকাণ্ডের পর পরই মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। আটক কিশোরদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানান, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ ও নেপথ্য ঘটনা উদ্ঘাটনে আটকদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলার অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।