খুলনার ইসলাম নগর এলাকার একটি মেসে কাউকে না জানিয়ে খাবার খাওয়া ও চুরির অপবাদ দিয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ছাদে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মো. আজমল হোসেন (২২)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আজমলের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় সলুয়া গ্রামে এবং তার বাবার নাম মো. কুতুব উদ্দিন। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ইসলাম নগর এলাকার আকিবের বাড়িতে ভাড়া দেওয়া একটি মেসে থাকতেন আজমল। মেসের নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো বেলার খাবার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে তা দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিশ্চিত করতে হয়। তবে গত শুক্রবার রাতে আগাম না জানিয়েই আরেকজনের খাবার খেয়ে ফেলেন আজমল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মেসের অন্য সদস্যরা। প্রথমে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং পরবর্তীতে তাকে পাঁচ তলা ভবনের ছাদে নিয়ে মারাত্মকভাবে মারধর করা হয় এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেলে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন অভিযোগ করে জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে আজমল তাকে ফোন করে জানায়, না বলে ভাত খাওয়া এবং টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে মেসের অন্যান্য সদস্যরা তাকে আটকে রেখেছে। পরবর্তীতে মেসের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে ফোনে কথা বললে তারা সরাসরি এক লাখ টাকা দাবি করে। পরিস্থিতি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে স্বজনরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অন্যদিকে মেসের রান্নার দায়িত্বে থাকা নারী জানান, না জানিয়ে খাবার খাওয়া ও পরবর্তীতে মোবাইল, ল্যাপটপ ও টাকা চুরির অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল তদন্ত করে পিটিয়ে মারার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ছাদে মারধরে ব্যবহৃত লাঠি আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের বাবার কাছে ফোনে টাকা দাবির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মোবাইল ফোনের সিডিআরের (কল ডিটেইল রেকর্ড) আবেদন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের নিথর দেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আইনগত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মর্মান্তিক এই মৃত্যুকে অত্যন্ত রহস্যজনক আখ্যা দিয়ে ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।